আপত্তিকর অবস্থায় ধরার অভিযোগে নির্যাতন, পরে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:০২ পিএম


আপত্তিকর অবস্থায় ধরার অভিযোগে নির্যাতন, পরে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর
নির্যাতনের ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)। এরপর শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission