বান্দরবানে বর্ষায় খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। সম্প্রতি সময়ে টানা বন্যায় বান্দরবান সদর উপজেলার খোয়ালিয়া খোলা এলাকায় বসতি ও ফসলি জমি, খেত-খামারসহ বিশাল এলাকা ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
নদী ভাঙনের ফলে কৃষি নির্ভরশীল মানুষগুলোর স্বপ্নের ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীতীরে অনেক পরিবার এখনও আত্মীয়-স্বজন বা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও, হেডম্যানপাড়া খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, গোয়ালিয়া খোলা নদী ভাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বান্দরবানের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গোয়ালিয়াখোলা এলাকা ফসলি জমি, খেত-খামার ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ।
তাদের মতে, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় খেত-খামার ও বসতবাড়ি ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। তারা বাপদাদার সম্পত্তিগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছে। নদীভাঙনে গৃহহীন, ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ। এলাকাটির বেশ কয়েকটি পরিবারের শেষ ঠাঁই মেলে আত্মীয়-স্বজন কিংবা অন্যের আশ্রয়ে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় ২৫০ মিটারের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেখানে আপদকালীন কাজ জরুরি শুরু করা হবে।
এছাড়া, নদী ভাঙন এলাকাগুলো নিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে গোয়ালিয়া খোলা এলাকায় ১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কাজটি শুরু করা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বিভাগীয় প্রধানকে বলা হয়েছে, তালিকাও করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করবেন। নদী ভাঙনটা রোধ করা না গেলে আরও বেশি ভাঙন সৃষ্টি হবে এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে। নদী ভাঙনে সরকারি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মেরামত ও নদীতীর রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনপ্রবণ এ জেলাকে বিশেষ হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নদী সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রবাহ বাড়াতে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
আরটিভি/এসএস



