ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ১৩ বছরের কিশোরীকে, অতঃপর...

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:৪৮ পিএম


ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ১৩ বছরের কিশোরীকে, অতঃপর...
ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বিয়ের গেট। ছবি: আরটিভি

সুনামগঞ্জে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ের বিয়ে ভেস্তে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরাম’।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া ওই মেয়ে একই এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা বাক প্রতিবন্ধী এবং মা সৌদি আরবে থাকেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ই‌উএনও) নির্দেশনায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। বিয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। কিশোরীর স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই কিশোরীর আত্মীয়-স্বজনরা দাবি করেছেন সে পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে আদালতে বিয়ে করেছে।

জানা গেছে, ওই কিশোরীর সঙ্গে সোমবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। পুরোদমে চলছিল বিয়ের আয়োজন। কিন্তু সকালে এই বিয়ের খবর পান উপজেলা প্রশাসন ও তাহিরপুর উপজেলা সদরের সামাজিক সংগঠন স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরামের সদস্যরা। সবাই খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কিশোরীটি গত বছর সপ্তম শ্রেণিতে লেখা-পড়া করেছিল। কিন্তু এই বছর তার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে ইউএনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এদিকে সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি থানায় জানানো হয়। থানা থেকেও বিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পুলিশের উপস্থিতিতে বিয়ের গেট খুলে দেন এবং স্বজনদের কাছ থেকে বিয়ে দেওয়া হবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেন।

আরও পড়ুন

স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি গেল বছর ক্লাস সেভেনে পড়েছে বলে আমরা খবর পাই। সাথে সাথে বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানাই। পুলিশ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বিয়ের গেট ভেঙে দিয়েছেন। এতে এত কম বয়সে বিয়ে ও সংসারের বোঝা টানা থেকে রক্ষা পেয়েছে মেয়েটি।  

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, খবর পাওয়ার পর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, একটি মেয়ের বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার পরপরই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission