
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার নাজিমটিলায় রাতের আঁধারে জমি দখল ও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত জমিতে জোরপূর্বক বসতি স্থাপনের চেষ্টার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ভূমি অফিসের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম ও অবস্থানে স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লংগদুতে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। তারা এক এলাকার জমির চৌহদ্দি পরিবর্তন করে অন্য এলাকার নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এবং পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি নাজিমটিলা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্থানে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করে একটি পরিবার অবস্থান নেয়। দখলকারীদের পক্ষে থাকা মো. সোলাইমান (৪৫) দাবি করেন, জমিটির মূল মালিক লহরী জীবন চাকমার (৪২) কাছ থেকে তিনি তা ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে, মাইনিমুখ এলাকার বাসিন্দা মো. শাহআলম (মিন্টু মাস্টার) জমিটিকে নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে আদালতে মামলা পরিচালনা করছেন।
আইনি জটিলতা থাকায় জায়গাটি এতদিন পরিত্যক্ত ছিল। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একটি পক্ষ বিরোধপূর্ণ সেই অর্ধেক নির্মিত ঘরটিতে সপরিবারে অবস্থান নিলে টানটান উত্তেজনা শুরু হয়। খবর পেয়ে পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর লংগদু জোনের হরকুমার ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে যায়। সেনাবাহিনীর নির্দেশে দখলকারীরা স্বেচ্ছায় তাদের মালামাল সরিয়ে অন্যত্র চলে যান।
পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে লংগদু জোনের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এক আপোশ-মীমাংসা সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের পেশ করা জমির দলিল-দস্তাবেজ ও কাগজপত্র সংগৃহীত হয়।
জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নথিপত্রসমূহ স্থানীয় ভূমি অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেনা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভূমি অফিসের আইনি প্রতিবেদন ও চূড়ান্ত নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত উক্ত জমি ও ঘর সম্পূর্ণ খালি থাকবে এবং কোনো পক্ষই সেখানে দখল বা বসবাস করতে পারবে না।
আরটিভি/এমএইচজে


