ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং পদক তুলে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ওই আসামি নিজেই পদক গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই রাতে গৌরীপুর শহরের সতিষা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় মানিক মিয়া (৪০)-কে একদল দুর্বৃত্ত ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় মো. আহম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান (৩২)সহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় আল ইমরানকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নেন বলে জানা গেছে। জামিনে থাকা অবস্থায়ই বৃহস্পতিবার গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আল ইমরানের উপস্থিতি এবং পদক বিতরণে অংশ নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১১ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা, গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মণ্ডল বলেন, আল ইমরান খান যে আমাদের অনুষ্ঠানে আসবে, তা আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠানের মাঝখানে সে হঠাৎ প্রবেশ করায় পরিস্থিতির কারণে তাকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি ভালো অনুষ্ঠানে একজন হত্যা মামলার আসামির এমন উপস্থিতি আমাদের চরমভাবে বিব্রত করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ বলেন, আমি গুণীজনের তালিকায় ছিলাম। আমাকে যখন পদকের জন্য মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন আল ইমরানসহ আরও পাঁচজন আমার হাতে পদক তুলে দেয়। আমি যদি আগে জানতাম সে একজন হত্যা মামলার আসামি, তাহলে কখনোই তার হাত থেকে পদক গ্রহণ করতাম না।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কী বলেন? আমার তো এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তা ছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনিও না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে হত্যা মামলার আসামির এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিতে নিহত মানিক মিয়ার পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই রুহুল আমীন মণ্ডল বলেন, কী বলব ভাই, এখন কিছু বলতে গেলেই আরো বিপদ। আর বিপদ আনতে চাই না।
আরটিভি/এমএম




