
নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির এক কার্য সহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে এ মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কার্য সহকারীকে ডেকে নেন। চা খাওয়ার কথা বলে তাকে একটি টিনশেডের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান অভিযুক্তরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে এক নারী তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন এবং এক ব্যক্তি মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ করতে থাকেন। এতে আপত্তি করলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১১ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেন। পরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর করা একটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা লিখে নেওয়া হয়। আরেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ফাঁকা রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ছাড়া চেকবইয়ের অবশিষ্ট পাতাগুলো এবং তিনটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পেও তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরদিন ৯ আগস্ট ওই চেকের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য অভিযুক্তরা মান্দা উপজেলার সতিহাটে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যান। এর আগে ভুক্তভোগী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিসাবটির লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে টাকা উত্তোলন করতে না পেরে অভিযুক্তরা ব্যাংকেই অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যান। পুলিশ ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা চেকটি জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তানজিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা গত ৭ আগস্ট ফয়জুল মোল্লা নামের আরেক ব্যক্তিকেও একই কায়দায় হানিট্র্যাপে ফেলে ৬০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আজ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরটিভি/আইএম


