
সাভারের শ্যামপুর এলাকায় বোমা উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পার্শ্ববর্তী বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ী এলাকার ঘোড়া মসজিদের সামনের মাঠ থেকে প্রেসার কুকারে তৈরি একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান বলেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘোড়া মসজিদের সামনের মাঠে একটি ড্রাম দেখতে পায় স্থানীয়রা। ড্রামের ভেতর কিছু কাপড়, একটি কোরআন শরিফ, কসটেপ প্যাঁচানো একটি প্রেসার কুকার ছিল। রাতে ড্রামটি ওই অবস্থায় ছিল।
তিনি বলেন, প্রেসার কুকারের মুখ থেকে কসটেপ পেঁচানো কিছু বৈদ্যুতিক তার বের হয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে সাভার মডেল থানার একটি চৌকস দল গিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানটি ঘিরে রাখে এবং আশপাশের কৌতূহলী মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে আইইডি (বোমা সদৃশ) মনে হচ্ছে। ঝুঁকিমুক্তভাবে এটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। এক্সপার্ট টিম এসে পৌঁছালে বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগ থেকে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
পাশাপাশি দুটি এলাকায় বোমা ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বস্তু ফেলে রেখে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে নেমেছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
আরটিভি/এমএইচজে




