ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপেয় পানির আওতায় বান্দরবানের ৫ শতাধিক পরিবার

বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
নির্মাণাধীন ৪০ হাজার লিটার পানির হাউস : ছবি আরটিভি

বান্দরবান সদর উপজেলার ডলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পৃথক দুটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যেখানে নিরাপদ পানির জন্য প্রতিদিনই মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পাহাড়ি পথ। পাহাড়ের ঢালে বসতি, একদিকে খাড়া পাহাড় আর অন্যদিকে ঝিরি-ছড়া, এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়ার পানি কমে গেলে অনেক পরিবারকে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী ও শিশুরা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। আর এ নতুন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এলাকাবাসীদের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলা কুহালং ইউনিয়নের ডুলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম। এই দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট ছিল। ঝিরির শুকিয়ে যাওয়া পাশাপাশি দুর্গম পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করা যেন প্রতিদিনের এক যুদ্ধ। পানি সংকট নিরসনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অর্থায়নে সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ।

আরও পড়ুন

পাশাপাশি নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউসের মাধ্যমে পাইপলাইনে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহ করা হবে নিরাপদ পানি। এতে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ইসলাপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই পানি জন্য বহুদূরে যেতে হয়। আর কষ্ট যেমন হত তেমনি পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হত। এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে হাউজ করে দিচ্ছে। কাজটি শেষ হলে পানি জন্য আর সমস্যায় পড়তে হবে না।

চেমী ডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা বলেন, এলাকায় প্রায় ৩০০টি পরিবার আছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি জন্য কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হত। দীর্ঘ অপেক্ষা পর পানি লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর পানি পেতাম। এখন সরকার থেকে পানির হাউজ করে দিচ্ছে, আশা করি কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে।

আরও পড়ুন

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাহবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস ও দুটি ডিপ টিউবওয়েল। যে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে, হাউস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনে মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহ করা হবে নিরাপদ পানি।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ ইতোমধ্যে কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দুই গ্রামে দুটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা লাঘব হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। যেখানে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার থাকত। সেসব এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামে স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীদের পানি দুর্ভোগ যেমন লাঘব হবে তেমনি তাদের জীবনযাত্রা মান এগিয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘বিটিএস’-এর প্রতি অন্ধ আকর্ষণ এবং টিকটকের নেশায় ঘর ছেড়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তায় কুড়িগ্রাম থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং টিকটকে আসক্ত।  পুলিশ জানায়, টিকটক দেখতে দেখতেই তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়ার অবাস্তব ইচ্ছা জাগে। সম্প্রতি তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হলে তিন বন্ধু মিলে দেশ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসযোগে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা। কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর পথ হারিয়ে ফেলে কিশোরীরা। সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাত কাটানোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ওই নারী তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসআই তাজউদ্দিন দ্রুত বাড়িতে এসে কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে তাদের প্রকৃত ঠিকানা জেনে নেন। এরপর তিনি পাবনা সদর থানা ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদর থানা–পুলিশের একটি দল কুড়িগ্রামে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনে। কিশোরীরা বাড়ি না ফেরায় শুরুতেই পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান লাভ করে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর বাবা–মা তীব্র বিব্রত প্রকাশ করেন। তার বাবা বলেন, ‘ওরা তো ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শুকরিয়া।’ আরটিভি/এসএস
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
গর্তে হাত দিয়ে অজ্ঞাত প্রাণীর কামড়ে শিশুর মৃত্যু
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গর্তে হাত দেওয়ার পর অজ্ঞাত প্রাণীর কামড়ে রাইসা মনি নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গর্তে হাত দিয়ে অজ্ঞাত প্রাণীর কামড়ে শিশুর মৃত্যু
নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ
নওগাঁয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রেখেছে।
নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ
অভিমান করে ঘর ছেড়ে সীমান্তের পথে তিন স্কুলছাত্রী, অতঃপর...
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয় তিন সহপাঠী স্কুলছাত্রী। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে তারা প্রথমে চলে যায় পাবনা বাস টার্মিনালে। সেখান থেকে বাসে নাটোর, এরপর রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম। লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকার দিকে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত অপরিচিত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলায় তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় তিন স্কুলছাত্রীকে।
অভিমান করে ঘর ছেড়ে সীমান্তের পথে তিন স্কুলছাত্রী, অতঃপর...
আরও পড়ুন
মসজিদের শৌচাগার থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গহিন জঙ্গলে পরনের লুঙ্গি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা, পড়ে ছিল লাশ
বিশ্ব পর্যটন দিবসে বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশ
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প