
বান্দরবান সদর উপজেলার ডলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পৃথক দুটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যেখানে নিরাপদ পানির জন্য প্রতিদিনই মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পাহাড়ি পথ। পাহাড়ের ঢালে বসতি, একদিকে খাড়া পাহাড় আর অন্যদিকে ঝিরি-ছড়া, এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়ার পানি কমে গেলে অনেক পরিবারকে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী ও শিশুরা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। আর এ নতুন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এলাকাবাসীদের মাঝে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলা কুহালং ইউনিয়নের ডুলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম। এই দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট ছিল। ঝিরির শুকিয়ে যাওয়া পাশাপাশি দুর্গম পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করা যেন প্রতিদিনের এক যুদ্ধ। পানি সংকট নিরসনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অর্থায়নে সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ।
পাশাপাশি নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউসের মাধ্যমে পাইপলাইনে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহ করা হবে নিরাপদ পানি। এতে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ইসলাপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই পানি জন্য বহুদূরে যেতে হয়। আর কষ্ট যেমন হত তেমনি পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হত। এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে হাউজ করে দিচ্ছে। কাজটি শেষ হলে পানি জন্য আর সমস্যায় পড়তে হবে না।
চেমী ডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা বলেন, এলাকায় প্রায় ৩০০টি পরিবার আছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি জন্য কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হত। দীর্ঘ অপেক্ষা পর পানি লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর পানি পেতাম। এখন সরকার থেকে পানির হাউজ করে দিচ্ছে, আশা করি কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাহবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস ও দুটি ডিপ টিউবওয়েল। যে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে, হাউস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনে মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহ করা হবে নিরাপদ পানি।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ ইতোমধ্যে কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দুই গ্রামে দুটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা লাঘব হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। যেখানে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার থাকত। সেসব এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামে স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীদের পানি দুর্ভোগ যেমন লাঘব হবে তেমনি তাদের জীবনযাত্রা মান এগিয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
আরটিভি/এমএম




