
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘বিটিএস’-এর প্রতি অন্ধ আকর্ষণ এবং টিকটকের নেশায় ঘর ছেড়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তায় কুড়িগ্রাম থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং টিকটকে আসক্ত।
পুলিশ জানায়, টিকটক দেখতে দেখতেই তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়ার অবাস্তব ইচ্ছা জাগে। সম্প্রতি তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হলে তিন বন্ধু মিলে দেশ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসযোগে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা।
কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর পথ হারিয়ে ফেলে কিশোরীরা। সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাত কাটানোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।
বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ওই নারী তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসআই তাজউদ্দিন দ্রুত বাড়িতে এসে কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে তাদের প্রকৃত ঠিকানা জেনে নেন। এরপর তিনি পাবনা সদর থানা ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদর থানা–পুলিশের একটি দল কুড়িগ্রামে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনে।
কিশোরীরা বাড়ি না ফেরায় শুরুতেই পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান লাভ করে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর বাবা–মা তীব্র বিব্রত প্রকাশ করেন। তার বাবা বলেন, ‘ওরা তো ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শুকরিয়া।’
আরটিভি/এসএস



