ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘খদরে’ খাসি কাণ্ডে নতুন মোড়, সেই জামাইয়ের ফর্দনামা প্রকাশ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি: আরটিভি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানের খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই জাপান প্রবাসী বর চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় সামনে এসেছে। ঘটনার পর দুই পক্ষের সম্মতিতে করা একটি ফর্দনামা প্রকাশ্যে এসেছে। এতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বরের পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তার চাচাতো ভাই মনির হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ছেলে ও মেয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ওই ফর্দনামা করা হয়। সেখানে বিয়ের কাবিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর ফুল দিয়ে বরকে বরণ করা হয়। এরপর গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বরপক্ষের জন্য খদরের খাবার পরিবেশন করা হলে সেখানে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে একা ফিরে যান তিনি।

এদিকে ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন জুনায়েদ। তার আরও দাবি, টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনেপক্ষ। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই ফর্দনামায় বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন স্বাক্ষরও করেছেন। ফলে পরবর্তীতে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খদরে খাসির বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।


আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মানুষের। বছরের পর বছর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিতে বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এ মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। প্রতিদিন কৃষিকাজ ও যাতায়াতের প্রয়োজনে এ রাস্তা ব্যবহার করেন কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে। তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি ও খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মানুষ। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বাড়ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় থাকেন। কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ফসল ঘরে তোলার সময় এই রাস্তার কারণে নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হোক। কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফসল নিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়া যায় না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং আমরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিতে পারব। কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। আমাদের এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ ও পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ও কৃষকেরা। আরটিভি/টিআর
পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের
লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালিপ্রবাসী মো. সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামে সোলায়মানের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে ২০২৩ সালে তার স্বামীকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। সেখানে স্থানীয় আজাদ ও শাহপরানের যোগসাজশে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুক ও তার সহযোগীরা সোলায়মানকে জিম্মি করে নির্যাতন চালান। এ সময় কয়েক দফায় তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর সোনার চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী ও মেয়ে নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী
গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতে টহল চলাকালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপির স্থানীয় নেতা রফিকুল ইসলাম ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যান ও চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুমলিয়া এলাকায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে টহল ও পরোয়ানা তামিলের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। টহলের একপর্যায়ে মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন তারা। এ সময় একটি অজ্ঞাতনামা কাভার্ড ভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। এতে এসআই মিজানুর রহমান, পুলিশের পিএসআই জাবেদ ওমর, ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পুলিশের দাবি, কাভার্ড ভ্যানের চালক এসআই মিজানুর রহমানকে গাড়ির সঙ্গে আটকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান। পরে তাকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে দ্রুত ঘোড়াশালের দিকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় এক রিকশাচালক ও এক পথচারী আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফা আল হোসাইন রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পিএসআই জাবেদ ওমর বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত বিএনপি নেতার নাম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তুমলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত ও আহত পুলিশ সদস্যরা কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত। ঘটনার পর কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আরটিভি/টিআর
গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু
সাতক্ষীরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে দৃষ্টিনন্দন চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও গুণগত মান পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ।
সাতক্ষীরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ‘রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’ স্লোগানে সংগঠনটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
আরও পড়ুন
কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন
সমালোচকদের প্রতি রুমিন ফারহানার কড়া বার্তা
ওয়াজে যাওয়ার পথে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেলেন ৬ জন, অতঃপর...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু