
দেশের বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা, অথচ অনলাইনে মাত্র আটশ টাকায় চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকই লোভনীয় প্রচারণার ফাঁদে পড়ে আগাম টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এমন অভিযোগে নড়াইল থেকে দুই প্রতারককে আটক করেছে চাঁদপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন কালিয়া উপজেলার হাবিবুর রহমান (৪১) ও নয়ন মৃধা (৩৫)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিবন্ধিত। তারা কেবলমাত্র ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের শর্তে ক্রেতাদের কাছে ইলিশ সরবরাহ করে থাকে। আর যারা প্রতারক, তারা সস্তায় ইলিশ বিক্রির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোভনীয় ফাঁদ তৈরি করে। সাধারণ মানুষ সেই ফাঁদে পা দিলে তারা আগাম টাকা হাতিয়ে নেয়, যা প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো করেন না।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার সুস্বাদু ইলিশ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির লোভনীয় ফাঁদ তৈরি করে একটি প্রতারক চক্র। চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়। এতে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে পুলিশের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রকে ধরতে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। তারই ধারাবাহিকতায় নড়াইল থেকে এই দুজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সস্তায় ইলিশ বিক্রির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই দুজন প্রতারণা করে আসছিলেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএম


