
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে সংবর্ধনা ঘিরে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সংবর্ধনা উপলক্ষে আনন্দ মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে এই সংবর্ধনা দেন নবনির্বাচিত সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
এর আগে গণসংবর্ধনা উপলক্ষে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী-পুরুষসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বান্দরবান জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলা থেকে আগত বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী। বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজা প্রথমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান। এরপর নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য চনুমং, লুসাই মং, জসিম উদ্দীন তুষারসহ অন্যান্য সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে বরণ করে নেন।
এদিকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি-সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে পার্বত্য জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করেন।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বলেন, সার্বিক উন্নয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা তার মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার। এ ছাড়া পাহাড়ে বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শান্তি রক্ষায় কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে পরিষদের সব সেবা প্রদানেরও আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান করে আরও ১৪ জনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গত ২০ আগস্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পালের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি ও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপির উপজাতিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বান্দরবান তথা পার্বত্য জেলার নারী রাজনীতিবিদদের জন্য রোল মডেল মাম্যাচিং। ক্লিন ইমেজের এই নেত্রী নিজ কর্মগুণে জেলার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত।
মাম্যাচিং ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৭ সাল এবং ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরটিভি/টিআর


