ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রংপুরে চার খুন, মা-মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মা ও মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনের মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চার মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, আমরা কোনো সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের সাইন পাইনি। ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো স্যাম্পলগুলোতেও এ ধরনের কোনো এভিডেন্স পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, চারটি মরদেহেই বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সবার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো মরদেহের বুকে ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে এসব আঘাত মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর অনেক দেরিতে মর্গে পৌঁছায়। ততক্ষণে সেগুলো পচন প্রক্রিয়ায় চলে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে চারজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরদেহের মুখ কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, এটি কোনো কেমিক্যাল বা অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ার ঘটনা নয়। পচন প্রক্রিয়ার কারণে শরীরের যে অংশ খোলা বা এক্সপোজড থাকে, তা ধীরে ধীরে কালো হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় ঘণ্টা বা মিনিট ধরে বলা সম্ভব নয়। কেবল একটি আনুমানিক সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়। চারজনের মধ্যে কে আগে বা পরে মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে, রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোম একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর শরীরেও ধর্ষণের আলামত ও বীর্যের উপস্থিতির দাবি করেন তিনি। পরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তির মনে হয়ে থাকতে পারে যে পরীক্ষায় কোনো ফল পাওয়া যাবে। তবে পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদও জানিয়েছিলেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজন পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আলোচিত এ মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির ওসি জিনাত আলী বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি আজিজের ছেলে পুলিশ হেফাজতে 
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টকে হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি আজিজের ছেলে পুলিশ হেফাজতে 
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যে সাজা পেলেন আলমগীর
লালমনিরহাটে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যে সাজা পেলেন আলমগীর
৭০ বছরের ঐতিহ্য বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ নিষেধ!
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার বিশেষত্ব হলো, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এখানে পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। নারী ও শিশুরাই এ সময় মেলার ক্রেতা ও দর্শনার্থী। তবে দোকানিদের মধ্যে পুরুষ বিক্রেতারাও রয়েছেন।
৭০ বছরের ঐতিহ্য বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ নিষেধ!
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসার ভেতরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক খুদে বার্তায় তিনি এ কথা জানান। তবে তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন, তা স্পষ্ট করেননি। বার্তায় রুমি বলেন, আমি আর এই দেশে নেই। এসব নিয়ে যা হয় হোক, যে যা খুশি বলুক, করুক আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনারা সবাই ভালো থাকেন।   বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সাংবাদিক তার প্রকাশ করা ভিডিও থেকে কেটে সেটে বিভিন্নভাবে প্রচার করেছেন। এর ফলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। তবে তিনি আইনের কাছে সঠিক বিচার চেয়েছেন বলে জানান। রুমি বলেন, আমি এই দেশবাসীকে একটাই অনুরোধ করব, আপনাদের সঙ্গেও যদি এমন ঘটনা হয়, প্রতিবাদ অবশ্যই করবেন।  ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় ও বিতর্ক শুরু হয়। ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি; শিক্ষক কারাগারে যাওয়ার পর মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে মাদরাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ছাড়াও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসা ভাঙচুর, টাকা লুট ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওই অভিভাবকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।  পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা এই মামলা দায়েরের পর থেকেই জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান শাহজালাল রুমি। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ও আলোচনার মধ্যেই সোমবার রাতে খুদেবার্তা পাঠিয়ে তিনি দেশ ছাড়ার দাবি করেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান কিংবা তিনি বৈধভাবে দেশত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরটিভি/টিআর
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সড়কে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অবরোধ চলছে।
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
আরও পড়ুন
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যে সাজা পেলেন আলমগীর
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর বিক্রি করে দেওয়া সন্তান উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
‘বাবা এসেছে’ ভেবে দরজা খুলে বড় বিপদে ১০ বছরের শিশু!
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সন্তান বিক্রি করে দিল ধর্ষকের পরিবার