
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকার সন্দেহে নিচতলায় গিয়ে মিটারের তার কেটে দেন আসামি সিদ্ধার্থ দাস।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস নিচে নেমে আসেন। তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এ সময় ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে ছিল গণপতি চক্রবর্তীর ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম। সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় কোনো আলামত না রাখতে ঘুমন্ত শিশু প্রিয়মকেও হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে জানানো হয়েছে।
এরপর বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকার সন্দেহে সিদ্ধার্থ একটি পুরোনো প্লাস দিয়ে নিচতলায় গিয়ে মূল বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে দেন। এতে শর্টসার্কিট হয়ে পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার সময় আসামি মুগ্ধ ওপরতলায় অবস্থান করছিলেন বলে ডিবিকে জানান সিদ্ধার্থ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, লাশ উদ্ধারের পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে আটক করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে বাইরে থেকে অনেকে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা অনুচিত।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ছোটখাটো কিছু বিষয় গোপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আদালতে তারা পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ডিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার বিচারিক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এসকে


