
গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সপরিবারে উধাও হয়ে গেছেন চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস। তার সঙ্গে স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রূপম দাসও আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরে বহু বছর ধরে সোনার ব্যবসা করে আসা পিন্টু দাস শহরের জোড় পুকুর পাড়ের ‘প্রীতি কুঞ্জ’ ভবনের নিচতলায় প্রথম দোকান চালু করেন। সেখান থেকে ব্যবসা স্থানান্তর করেন কালীবাড়ি মন্দিরের পাশে এবং সর্বশেষ প্রায় ৫-৬ মাস আগে কুমিল্লা রোডের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে নতুন দোকান নেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা করার সুবাদে গড়ে ওঠা গ্রাহকদের বিশ্বস্ততাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। গ্রাহকদের সোনা বন্ধক রেখে টাকা নেওয়ার পরামর্শ দিতেন তিনি। তবে যে পরিমাণ সোনা জমা রাখা হতো, গ্রাহককে দিত তার চার ভাগের একভাগ টাকা। পরে পাওনা টাকা পরিশোধ করে সোনা ফেরত চাইতে গেলে তিনি নানা তালবাহানা করতেন। এছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার কথা বলে মোটা অঙ্কের ঋণ নেন এই ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি হঠাৎ করেই দোকান ও বাসা বন্ধ করে রাতের আঁধারে মালামাল নিয়ে সপরিবারে চম্পট দেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষ মদিনা মার্কেটের দোকানটির সামনে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।
এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী রাসেল খান। তিনি জানান, সুসম্পর্কের সুবাদে কয়েক মাস আগে পিন্টু দাসের কাছে ৫০ হাজার টাকায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রাখেন। গত ১৯ আগস্ট টাকা পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত চাইলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন (২০ আগস্ট) আসার পরামর্শ দেন। পরের দিন দোকানে গিয়ে রাসেল দেখতে পান দোকানটি বন্ধ। এরপর পিন্টুর ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তার বাসায় গিয়েও দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
দক্ষিণ গুণরাজদী এলাকার আরেক ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার নামে এক ব্যবসায়ী ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখে এখন তা ফেরত পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
তবে পিন্টু দাসের স্থায়ী ঠিকানা কোথায়, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। ভুক্তভোগী রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রামের বাড়ির ঠিকানা জানার জন্য তিনি দোকান মালিক ও বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মদিনা মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন দোকান নেওয়ার পর পিন্টু দাস আশেপাশের দোকানদারদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। ফলে তার স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত ছিলেন না।
প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা দ্রুত পিন্টু দাসকে গ্রেপ্তার এবং তাদের গচ্ছিত সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্য ভুক্তভোগীরাও থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরটিভি/এসএস


