ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘোরাঘুরির ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। সামনে যাকেই পাচ্ছেন, হঠাৎ তার দিকেই বন্দুক তাক করে ধরছেন।

রিকশাচালক, পথচারী, এমনকি শিশুরাও বাদ পড়েনি। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, আবার কেউ বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকছেন।

এমন ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট করেন। কেউ কেউ সরকারের সমালোচনাও করেন।

তবে ভিডিওটি বাস্তব অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয় বলে দাবি করেছেন ভিডিওতে থাকা দুই তরুণের একজন। তার ভাষ্য, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত বন্দুক দুটি ছিল খেলনা।

জানা গেছে, ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্ক, যা আগে শেখ রাসেল নহর পার্ক নামে পরিচিত ছিল, এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা হয়। ভিডিওটির নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইয়াসিন নামে আরেক তরুণ, যিনি মূলত ক্যামেরাম্যান হিসেবে ভিডিও ধারণে সহযোগিতা করেন।

ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। পরে ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও এটি প্রকাশ করা হয়। লিমনের দাবি, তিনটি অ্যাকাউন্টই তার।

লিমন তোহার ভাষ্য, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর প্রচলন দেখে তিনি কনটেন্টটি তৈরি করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি মজার ভিডিও হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করছেন। ভিডিওতে মানুষের ভয় পাওয়ার অংশ দেখানো হলেও পরে তারা যে বিষয়টি মজা হিসেবে নিয়েছেন, সেই অংশ প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

লিমনের দাবি, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখে তিনি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানি নাটক ও ভিডিওর আদলে তৈরি কনটেন্টে দর্শকদের বেশি সাড়া পাওয়ায় তিনি এ ধরনের ভিডিও তৈরিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

তবে এভাবে খেলনা বন্দুক হাতে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো আইনত বৈধ কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো খেলনা দাবি করে লিমন বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছিল। শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেলেও পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে বিষয়টি মজা হিসেবে নিয়েছেন বলেও তার দাবি।

তবে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে পুলিশ অবগত নয়। এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, সিটি পার্ক এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাদের কেউ বা পার্ক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনোদনের উদ্দেশ্যে হলেও এভাবে অস্ত্র বা অস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু দিয়ে জনসাধারণকে ভয় দেখানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

আরও পড়ুন

ভিডিওটি নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও, ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা কীভাবে সেখানে মরদেহটি এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও চেষ্টা করছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ডগ স্কোয়াডসহ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানায়, সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৪ থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কানসাট গ্রামের মধ্যবাজারের পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯ গ্রাম হেরোইনসহ মো. আতাউর রহমান (৫০) ও মো. নুরুল ইসলাম বাবু (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গোলাম মাওলা (৫০) নামে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার গোলাম মাওলা কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি শাহপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম হাক্কানীর ছোট ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা একটি মামলায় গোলাম মাওলা তালিকাভুক্ত আসামি। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি নিজ বাড়িতে ফিরেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর তালিকাভুক্ত কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/টিআর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
ডোবায় মিলল ভাঙারি ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
ইটের ফাঁক দিয়ে টাকা দিলেই উপর থেকে নেমে আসে মাদক
নারায়ণগঞ্জে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০
মসজিদে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তল-গুলি, ঘটনা কী