
বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে বাড়ি ফিরেছিল পরিবার। ঘরজুড়ে তখন নতুন সংসারের স্বপ্ন, আনন্দের প্রস্তুতি। কিন্তু কে জানত, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই আনন্দ রূপ নেবে বিষাদে। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার যুবক অপু দাশ (২৮)।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশেই বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপু দাশকে পাত্রী দেখানো হয় এবং বিয়ের বিষয়ে পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও সম্পন্ন হয়। এরপর হাসপাতালে যান তিনি এবং সেখান থেকে দায়িত্ব পালন শেষে রাত আটটার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
পথিমধ্যে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) মৃণাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু আমাদের হাসপাতালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অপুর মা শোকে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি ও আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে কান্না ও আহাজারি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আরটিভি/টিআর




