ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোরীর সঙ্গে ১৬ মাস ধরে ‘সংসার-সংসার’ খেলেন ভ্যানচালক, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৬ মাস স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করার পর রবিউল ইসলাম রবি (২৬) নেমে এক ভ্যানচালকের বিরুদ্ধে বিয়ে না করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ রবিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

তবে, ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। আসামিপক্ষের দাবি— পরিবারের সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি মেনে তাদের বিয়ে হয়েছিল, যার একাধিক ছবিও রয়েছে; অন্যদিকে বাদীর পরিবারের অভিযোগ— বিয়ের কোনো কাবিননামা দেওয়া হয়নি এবং নির্যাতনের পর মেয়েটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর বারোবাজার ইউনিয়নের লুচিয়া গ্রামের। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। ফলে উভয় পক্ষের অভিযোগ, বিয়ের প্রকৃতি এবং মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম রবি কালীগঞ্জ উপজেলার লুচিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভ্যান চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারে মৌসুমি ফলের শরবত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে রবির পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত বছরের ২৫ আগস্ট বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে কালীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে রবির বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে অবস্থান করার সময় কাবিননামা ও বিয়ের কাগজপত্র চাইলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

এরপর চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তাকে রবির বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করলে আদালত সেটি কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে বারোবাজার পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল লুচিয়া গ্রামে রবির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে ঘটনার অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে বাদীর বয়স নিয়ে। পরিবারের দেওয়া জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর ১ মাস। তবে মামলার এজাহারে তার বয়স ১৪ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার সঙ্গে সংঘটিত কথিত বিয়ের আইনি বৈধতা এবং ঘটনার অন্যান্য বিষয় আইনিভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বয়স সংক্রান্ত সরকারি নথি, ঘটনার সময়কাল এবং বিয়ের দাবির প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।

অভিযুক্ত রবির বাবা মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার ছেলে কুমড়াবাড়িয়া গ্রামে ওই মেয়ের বাবার বাড়িতে একাধিকবার যাতায়াত করে এবং বিষয়টি মেয়ের পরিবারের সদস্যরাও জানতেন। তার দাবি, পরে মেয়ের বাবা ও আত্মীয়স্বজন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই মেয়ের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, মেয়ের বয়স কম থাকায় আইনি জটিলতার কথা চিন্তা করে কাবিননামা করা হয়নি। কুমড়াবাড়িয়া গ্রামে স্থানীয় এক ধর্মীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। এরপর প্রায় ১৬ মাস তারা সংসার করেছে। দুই পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত ও আত্মীয়তাও ছিল। আমার ছেলের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

এদিকে অনুসন্ধানে রবির পরিবারের কাছে তাদের কথিত বিয়ের অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে ওই কিশোরী ও রবিউল ইসলাম রবির একসঙ্গে তোলা বেশ কিছু ছবিও রয়েছে। ছবিগুলোতে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে দুজনের একসঙ্গে অবস্থানের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করেছে রবির পরিবার।

রবিদের প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা রবির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ভালো সম্পর্ক ছিল। রবির শ্বশুরবাড়ির লোকজনও একাধিকবার এখানে বেড়াতে এসেছেন। মেয়েটির বয়স কম থাকায় বিয়ের বৈধতা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে পুরো ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

রবির বন্ধু রনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৫০ জন বরযাত্রী নিয়ে তারা কুমড়াবাড়িয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল।

লুচিয়া গ্রামের গৃহবধূ পারভীনা বেগম জানান, সংসারের কাজ নিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার শাশুড়ির কিছুদিন আগে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে ওই কিশোরীর নানি এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। তার দাবি, আমরা জানতাম কয়েকদিন পর আবার সংসারে ফিরে আসবে। পরে পুলিশ রবিকে গ্রেপ্তার করার পর জানতে পারি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক।

তবে রবির স্বজনরা জানান, গত ২৪ আগস্ট রাতের অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাওয়া হলেও তারা তা দেখাননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কিশোরীর বাবার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বাদীর বড় বোন পরিচয় দেওয়া এক নারী জানান, তাদের এলাকায় এবং রবির বাড়িতেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল। তবে ওই বিয়ের কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে দেওয়া হয়নি।

তার দাবি, রবিউল ইসলাম রবি তার ছোট বোনকে ফুসলিয়ে সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তীতে রবির পরিবারের সদস্যরা তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে জানিয়েছে, তারা আর আমার বোনকে নেবে না। এজন্যই আমরা আদালতে মামলা করেছি। এখন যেটা হওয়ার, আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।

বাদী কিশোরী বলেন, এটি পারিবারিক বিষয়। আমি বিষয়টি মিডিয়ায় আনতে চাই না। আমরা এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাই না। পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই কিশোরী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করলে আদালত সেটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন। পরে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাদীর বয়সের বিষয়ে তিনি বলেন, বাদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে রবিউল ইসলাম রবি আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা, বাদীর বয়স, কথিত বিয়ের বাস্তবতা এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটিত হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে, কমেনি পদ্মার ভাঙন। এখনও তীব্র স্রোতে নদীতীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল।
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কিশোরীকে দিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
১৮ মাস আগে নিখোঁজ হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন। নিঝুমের মা মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ‘হ্যাকার সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা (৩২) ও তার সহযোগীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করতেন বাড়ির একটি কবুতরের ঘর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ওহিদুল মোল্লা লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় তিনি ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়িকে অনেকটা নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রেখেছিলেন। বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই তা বুঝতে পারতেন তিনি। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যবস্থা ছিল তার থাকার জায়গা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ঘর। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও ভেতরে ছিল ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ছিল। পুলিশ বলছে, ওই ঘরে বসেই সাইবার অপরাধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিমগুলো আলাদা করে একটি সাদা কাগজে ছক আকারে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হতো, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। ওসি বলেন, ওহিদুল গ্রেপ্তার এড়াতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি স্থাপন এবং কবুতরের ঘরের ভেতরে থাকার ব্যবস্থাও তারই অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/এসকে
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে হঠাৎ বেড়েছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে একদিকে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম।  ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় বাড়তে থাকে রডের দাম। ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়ে ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে বাড়ে সিমেন্টের দামও। তবে ২০২৪ সালের পর রড-সিমেন্টের দাম তুলনামূলক কমে আসে। এর সঙ্গে কমে যায় নির্মাণকাজ ও চাহিদাও। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড-সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। এখন দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করছি। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, এখন ৫৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ব্যবসায়ী নাজিম বলেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড-সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।  এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার বলেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড-সিমেন্টের প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।  তবে আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ায় রড-সিমেন্টের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে। ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দামই নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে। আরটিভি/এসকে
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
আরও পড়ুন
ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাসহ গ্রেপ্তার ২
এবার ভারতীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য