
বিয়ের জন্য চলছিল পাত্রী দেখা। স্বজনদের চোখে ছিল নতুন স্বপ্ন, শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন মো. আব্দুল আলিম। বিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসে কথা বলবেন, নতুন জীবনের পরিকল্পনা করবেন।
বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনাও হয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই কাস্টমস কর্মকর্তা। কিন্তু আলিমের আর বাড়ি ফেরা হলো না, সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তার জীবন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল এলাকার স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের পাশে বাস উল্টে প্রাণ হারান আব্দুল আলিম। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
নিহত আব্দুল আলিম চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসিন্দা।
তিনি আব্দুল কাদেরের ছেলে। সিলেট কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
আব্দুল আলিমের খালাতো ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, আলিম এখনো বিয়ে করেনি। তার জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছিল। বিয়ে নিয়ে পরিবারের সবারই আশা ছিল। বাড়িতে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সে আর ফিরতে পারল না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিবাগত রাতে চট্টগ্রামমুখী লেনে চলছিল একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক। হঠাৎ ট্রাকটি ব্রেক করলে পেছনে থাকা শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের ডান পাশের রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল আলিম। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এক মুহূর্তের দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে একটি পরিবারের সব হিসাব। যে মানুষটি হয়তো সামনে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখছিলেন, স্বজনদের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন নিয়ে কথা বলছিলেন, সেই মানুষটিই এখন পরিবারের কাছে শুধুই স্মৃতি। আনন্দের প্রস্তুতির বদলে তার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সাময়িকভাবে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুটি রেকারের সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার এসআই মাজেদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
তবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও স্বাভাবিক হবে না আব্দুল আলিমের পরিবারের জীবন। বিয়ের যে আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন বাজবে শোকের সুর। আর স্বজনদের মনে থেকে যাবে একটাই আক্ষেপ-বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ির পথে যাওয়া মানুষটি আর কোনোদিন বাড়ি ফিরলেন না।
আরটিভি/এমএম




