
বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে ভেতরে ঢুকে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সংঘটিত অপরাধের প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে একই এলাকার মো. আফাজ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মো. আফাজ সদর উপজেলার সিংড়াবুনিয়া এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবেশী চাচা।
এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জীবিকার তাগিদে বরিশালে অটোরিকশা চালান। বাড়িতে ওই নারী তার দুই শিশু সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে (৮ সেপ্টেম্বর ভোররাত) ভুক্তভোগী তার এক বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে নড়বড়ে টিনের ঘরে লোহার খাটে ঘুমিয়েছিলেন। তার শাশুড়ি ঘুমিয়েছিলেন পেছনের বারান্দায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত মো. আফাজ ঘরের উত্তর পাশের টিনের বেড়া খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পৈশাচিক নির্যাতন শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি তোষকের নিচে রাখা কিস্তি ও বাজারের নগদ ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। গৃহবধূ ডাক-চিৎকার শুরু করলে তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঘরের বাইরে থাকা বৈদ্যুতিক লাইটের আলোয় অভিযুক্ত আফাজ পালিয়ে যান। ওই আলোতেই ভুক্তভোগী তাকে স্পষ্টভাবে চিনতে পারেন।
ঘটনার পর লজ্জায় ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করার কথা প্রতিবেশী খাদিজাকে জানান ওই গৃহবধূ। খাদিজা তাকে ভেঙে না পড়ে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি কাজের জন্য বরিশাল থাকি। খবর পেয়েই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানাই। অভিযুক্ত আফাজ সম্পর্কে আমার চাচা হলেও তিনি আমার স্ত্রীর সাথে পশুর মতো আচরণ করেছেন। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার চাই।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু পারভেজ মোহাম্মদ হাসনাইন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএস




