ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘বীরাঙ্গনা মা’ ও ‘যুদ্ধ শিশু’ মেয়ের বাড়িঘর দখল চেষ্টার অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
মাজেদা বেগম ও শামসুন্নাহার : ছবি সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এলাকার একমাত্র গেজেটেড বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তার যুদ্ধশিশু কন্যা শামসুন্নাহারকে বাড়িঘর দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও নির্যাতন এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদা বেগম ও তার যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন সময় তাদের হয়রানি করে আসছে। এমনকি বাড়িঘর ও ভিটেমাটি দখলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাজেদা বেগমের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাকে একটি বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তার আত্মীয় আমির হোসেন ও জামাল মিয়া একটি চক্রের সহযোগিতায় তাদের ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় আমিন নজরুল ইসলাম তাদের না জানিয়ে বাড়িঘর মাপতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বাড়িঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন মাজেদা বেগম।

এর আগেও নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগে তারা মাধবপুর থানায় দুইবার অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে আমির হোসেন ও জামাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো আমাদের মালিকানাধীন জায়গা। নির্যাতনের অভিযোগ অতিরঞ্জিত।

এদিকে যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে গলার একটি জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে। তার চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে গত মার্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তার পরিবারের।

তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে একাধিকবার সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসূচিতেও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা।

বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে একটি স্বাধীন দেশে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কর্মসূচিতে আমাদের ডাকা হয় না। বিভিন্ন সময় টিটকারি-মশকরা করা হয়। আমাদের বীর নিবাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। এখন ন্যায়বিচারের জন্য থানায় থানায় ঘুরছি।

যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বলেন, রাষ্ট্র যদি আমাদের বিচার না করে, তাহলে একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যাব।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে নিউজ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করবে—বড় কথা হলো, আমাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চাই।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী ওরফে দুলা মিয়া বলেন, বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তার কন্যা আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তাদের ওপর এত নির্যাতনের বিষয়টি আমি জানতাম না। আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি আমি তুলে ধরব।

মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, আমি তাদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়টিও আগের ইউএনওর সময়ের। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাসউদ্দিন বলেন, বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কাছে সম্মানের। উপজেলার কোনো অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দিতে দেখিনি। যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহারও জটিল রোগে আক্রান্ত। রাষ্ট্রের নীরবতা তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য। তাদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা মাজেদা বেগমকে অপহরণ করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় বলে জানা যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি সামাজিকভাবে নানা বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হন। পরবর্তীতে সরকারিভাবে গেজেটেড বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান মাজেদা বেগম। মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের সময় তার গর্ভে জন্ম নেয় শামসুন্নাহার, যিনি যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে রাকিব নামে এক যুবক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন
আমনের মাঠে ইঁদুরের হানা, কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া
সবুজে মোড়ানো মাঠ। বাতাসে দুলছে আমন ধানের গাছ। ধানগাছে শীষ আসার অপেক্ষায় বুক বেঁধেছেন কৃষক। সেচ, সার, শ্রম আর পরিচর্যায় গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার দিন গুনছেন তারা।
আমনের মাঠে ইঁদুরের হানা, কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া
চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, অতঃপর...
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাকিতে চুল কেটে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। 
চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, অতঃপর...
মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, শিক্ষক ছেলে ব্যস্ত বিলাসে!
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি লিখে না দেওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে নিজ সন্তান ও এক মাদরাসা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। 
মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, শিক্ষক ছেলে ব্যস্ত বিলাসে!
খুলনায় এবার বিএনপি নেতাকে গুলি
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় অহিদুল ইসলাম বাদল (৩৫) নামে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান স্থানীয় লোকজন।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাদশার দোকানের সামনে বাদলকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, বেলা ১১টার পর নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এক সিগারেট কোম্পানির কর্মীকে গুলি করে তার ল্যাপটপসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ সালমান নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার সবুজবাগের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি ক্যামেল সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত। আরটিভি/এসআর
খুলনায় এবার বিএনপি নেতাকে গুলি
আরও পড়ুন
একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর চিরবিদায়