
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে তিনি বাসে ওঠেন ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে। বাসটি কিছুদূর যেতেই জাহাঙ্গীর বুঝতে পারেন, অন্য যাত্রীর সঙ্গে তিনিও জিম্মি। একপর্যায়ে মোবাইলফোন, টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রেখে সবাইকে নামিয়ে দিলেও, রেখে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। ৫ লাখ টাকার জন্য তাকে বাসেই নির্যাতন করে চক্রের সদস্যরা। ফোন করে ছোট ভাই ও সহকর্মীদের কাছ থেকে বিকাশে লক্ষাধিক টাকা এনে দেন জাহাঙ্গীর। তাতেও মুক্তি মেলেনি।
তবে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই শাহারুল আলম র্যাবকে বিষয়টি জানালে, তারা নগরীর দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণ চক্রের হোতা মো. বাদলকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইনস্যুরেন্সের কাজে ভালুকায় এসেছিলাম। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফিরতে বাসটিতে উঠি। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি দুই-তিনজন যাত্রী বাদে সবাই অপহরণ চক্রের সদস্য। বাকি যাত্রীদের সর্বস্ব নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। পরে জানালা বন্ধ করে পর্দা টেনে আমাকে মারধর করে। অস্ত্র দেখিয়ে বলে, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলব।
তিনি বলেন, ছোট ভাইসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিকাশে এনে দিলেও, তারা ছাড়েনি। ৫ লাখ টাকার জন্য আটকে রাখে। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা দেয়। ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা থেকে র্যাব আমাকে উদ্ধার করে।
র্যাব-১৪ কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর ছোট ভাই বিকাশে টাকা দেওয়ার কথা জানালে আমরা ওই মোবাইল ট্র্যাক করি। দেখতে পাই বাসটি ময়মনসিংহের দিকে আসছে। রাত ১২টার দিকে গাড়িটি আটকালে অপরাধীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় চক্রের হোতা বাদলকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, বাদলের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। আগেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের নাম তিনি জানিয়েছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


