
সিলেট সদর উপজেলার পীরেরবাজার এলাকার জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও অভিভাবকদের বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য—শুধু দুই শিশু নয়, ওই মাদরাসার আরও অনেক কোমলমতি শিশু এই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক ফয়জুল হক আদালতে তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর থেকে মাদরাসাটিতে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকরা পালিয়ে গেছেন।
ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা জানান, সম্প্রতি আট বছরের এক শিশুর শরীর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। ডাক্তার জানান, ওই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন ও আঘাতের স্পষ্ট ক্ষত রয়েছে।
এরপর সন্তানকে মাদরাসায় পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে অভিভাবকরা প্রথমে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে অসহায় শিশুটি নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। সে জানায়, প্রতি রাতেই ১/২ জন শিক্ষার্থীকে হুজুরের কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো। কাউকে কিছু না বলতে নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিশুদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের গুঞ্জন ছিল। এলাকাবাসী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর এই মাদরাসা চলতে দেবে না।
এর আগে শাহপরণ (রহ.) থানা পুলিশ ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মুহতামিম ফয়জুল হককে আটক করে। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অপরাধ স্বীকার করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে মাদরাসার অন্য কোনো শিক্ষক জড়িত আছেন কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত ফয়জুল হকের বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিকৃত মানসিকতার এই শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, মেয়েদের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই।
আরটিভি/এসএস


