
১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী নতুন সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ওপরে দেওয়াতে হয়তো স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর প্রকৌশল অফিসের বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (জিডিআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ১ হাজার ৫০০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণে অনিয়ম এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজনও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। সড়কটি মাটির ছিল। তাঁদের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিকভাবে ও মুঠোফোনে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
আগের কাদামাটির সড়কে কাদার ওপরেই ইট-খোয়া ফেলে কাজ শুরু করছে। অথচ প্রথমে সড়কে মাটি কাটার কথা ছিল। তারপর বালু ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের পুরোনো মাটি না কেটে ইট-খোয়া-বালু দিয়ে কাজ করেছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে উপস্থিত হয়ে ওই সড়ক উন্নয়ন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া বলেন, সকাল থেকে এই কাজের ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ওই সড়কের কাজের ফাইল খুঁজে না পাওয়ায় সড়কটি উন্নয়নে কবে থেকে কাজ শুরু হয়েছে এবং কবে নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষ।
তবে আমজাদ ট্রেডার্সের লোকজনকে ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের ২৬ জুলাই ওই সড়ক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরাটা অনেক কঠিন। কারণ, স্থানীয় লোকজন কাজের ধরনগুলো জানেন না। যখন সড়কে নিম্নমানের খোয়া দেওয়া হচ্ছে, তখনই স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুবই নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি শুধু ‘দেখছি’ বলেই দায় সেরেছেন, কিন্তু সরেজমিনে আসেননি।
আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি কোনো টেকসই কাজ হচ্ছে না। এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের রাস্তায় যদি এমন পোড়া ইটের গুঁড়ো আর নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়, আগামী বর্ষার শুরুতেই রাস্তা আবার নষ্ট হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। তিনি বলেন, সরকারি বড় অঙ্কের বাজেট থাকার পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দাপ্তরিক ফাইল ‘গায়েব’ হওয়ায় কাজের মান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হোক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কে কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়নি। এগুলো অটো ব্রিকসের খোয়া এবং টেস্টের ফলাফল ভালো।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখব। পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ওপরে দেওয়াতে হয়তো স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি ওই সড়ক পরিদর্শন করেছি। কোনো ধরনের ব্যত্যয় পাইনি।
আরটিভি/টিআর


