মেহেদী হাসান জুলহাস, আরটিভি নিউজ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চরহোগলা জমিদার বাড়ি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়ভাবে চরহোগলা চৌধুরী বাড়ি বা কালামিয়া জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত এ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এ ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি হারিয়ে যেতে পারে। প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, একসময় চরহোগলা জমিদার বাড়ি ছিল ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। বিশাল চত্বর, মূল আবাসিক ভবন, প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান ও সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ এ স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশায় ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক রীতি এবং তৎকালীন মুসলিম জমিদারি সংস্কৃতির সংমিশ্রণও দেখা যায়।
তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। দেয়ালে নোনা ধরে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। বর্ষায় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ভবনের ভেতরের অংশও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশ জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়ায় স্থাপনাটির সৌন্দর্যও অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সীমানা প্রাচীর না থাকা এবং স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশ বেদখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চরহোগলা জমিদার বাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি মেহেন্দীগঞ্জ তথা বরিশাল অঞ্চলের জমিদারি প্রথা, সামাজিক পরিবর্তন ও স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে স্থাপনাটি পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কাছেই উলানিয়া জমিদার বাড়ি থাকায় দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রাচীন স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যও বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ঐতিহাসিক এ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা যাচাই করে জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনার মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের ভাঙচুর ও বেদখল ঠেকাতেও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরহোগলা চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রাখা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



