
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কাঠ ও পাথর পুড়িয়ে চুন উৎপাদনের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি অবৈধ চুনা কারখানা ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন উপজেলার বালুয়াকান্দি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে চুল্লি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে কাঠ ও পাথর পোড়ানো হচ্ছিল। এতে চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল বলে জানায় প্রশাসন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং চুল্লির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভেকু দিয়ে কারখানার চুল্লিসহ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ছানোয়ার হোসেন, গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া এবং গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর একই কারখানার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ওই সময় কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও কার্যক্রম চালু করা হলে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে চুল্লিসহ পুরো অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়।
গজারিয়া ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্বেও সতর্ক করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ সাজা দেওয়া হলেও তারা আদেশ অমান্য করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করে। আইন অনুযায়ী এবার চুল্লি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এমএম


