
সাভারের আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং দগ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
এদের মধ্যে নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি কারখানার বাইরের এক দোকানদার। অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুনের ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাভার্ডভ্যানের ভেতর ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং কারখানার বাইরে গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে জয়নব বেগম নিহত হয়েছেন।
পরে একটি সূত্রে জানা গেছে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর আরও এক জন মারা গেছেন।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মো. মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে আহতদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালসহ আশপাশের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশু হাসপাতাল থেকে দগ্ধ গুরুতর আহত ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে আশুলিয়ার নরসিংহপুর নারী ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় 'প্রীতি গার্মেন্টস' নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার অভ্যন্তরে বিকট শব্দে কারখানা চত্বরে থাকা সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। আমাদের জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ছাড়াও সাভার, ডিইপিজেড, কালিয়াকৈর ইউনিট এসে ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আমরা ডাম্পিংয়ের কাজ করছি।’
এদিকে আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া জানান, কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে থাকা ৩টি কাভার্ ভ্যান আগুনে পুড়ে যায়। তবে কারখানার ভেতর আগুন পৌঁছাতে পারেনি।
আশুলিয়ার নরসিংহপুর নারী ও শিশু চিকিৎসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রীতি গ্রুপে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আশুলিয়ার নরসিংহপুর নারী ও শিশু চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৬ জন আহত রোগীকে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে দগ্ধ গুরুতর ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তায় কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে ফায়ার সার্ভিস শেষ মুহূর্তের কাজগুলো করছে।’
আরটিভি/এমএইচজে




