ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ এই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ এএম
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে প্রতিবাদের জেরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার মাধ্যমে আপোশ-মীমাংসার আলোচনা এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এমন অভিযোগ করেছেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউরা গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়া, বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক রুমন মিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারী দাবি করেন, বিভিন্ন ঘটনায় এভাবে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তার কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলায় আদালতের বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন জিএম কীভাবে মামলা মীমাংসার অর্থ নির্ধারণ করেন। এ ধরনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তারা তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধবপুরের বাঘাসুরা গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে রোমান মিয়ার সঙ্গে তেলিয়াপাড়া অভিযোগ কেন্দ্রের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিবাদের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়। পরে জিএম জিল্লুর রহমান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা আপোশের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি নথি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী দেলোয়ার মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়ার বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়।

সোহেল মিয়ার দাবি, তার বাবার নামে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সোহেল মিয়া বলেন, আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আদালত তার বিচার করবে। কিন্তু মামলা চলমান থাকার কারণে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা অন্যায় বলে মনে করি। এতে আমার স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিএমের ঘনিষ্ঠ একজনের মাধ্যমে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কিছু প্রমাণ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা করে পরে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করলে আদালত বিচার করবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এদিকে জিএম জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে চারটি স্থানে সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। ভূমির মালিকদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে সরকারকে জমি বিক্রির অভিযোগ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে। এছাড়া দালালের মাধ্যমে খুঁটি ও নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য এবং বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি সুরমা চা বাগানের হতদরিদ্র চা শ্রমিক রবি লাল গৌড়ের বিদ্যুৎ সংযোগ মাত্র ৫১১ টাকা বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন দরিদ্র চা শ্রমিকের সামান্য বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধবপুর জোনাল অফিসের এটিএম আবুল হাসানের কাছে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং এ বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জিএম জিল্লুর রহমান স্যার দেখছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক ও মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরাশউদ্দীন বলেন, কারো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে মামলা মীমাংসায় বাধ্য করা হলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। মামলা মীমাংসা করা সরকারি কর্মকর্তার কাজ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। কতজনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। একই সঙ্গে চারটি সাবস্টেশনের জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

তার ভাষ্য, সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরিমানা আদায়ের বিষয়টিও নিয়ম মেনে করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে এ পর্যন্ত কতজনকে এ ধরনের ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে এবং কত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে— এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, সোহেল মিয়ার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা অনেক সময় জিএমকে অনুরোধ করি এসব ঝামেলা সমাধানের জন্য। এখানে খারাপ কিছু দেখি না। আর জমি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির উপপরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখব। কেউ অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্যের মৃত্যু
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সূত্রমতে, রঙ্গীখালী এলাকার গভীর পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির একপর্যায়ে সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাঁ কাঁধে গুলি লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশমাতৃকার সেবায় দায়িত্ব পালনকালে তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। আরটিভি/টিআর
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্যের মৃত্যু
ময়মনসিংহে লোকালয় থেকে মেছোবাঘ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় লোকালয় থেকে একটি মেছোবাঘ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ঝালপাজা গ্রামের শামীম মণ্ডলের বসতবাড়ির আঙিনা থেকে বন্যপ্রাণীটি উদ্ধার করা হয়। পরে মেছোবাঘটি দেখতে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ নভেম্বর) গভীর রাতে পশ্চিম ঝালপাজা এলাকার বাসিন্দা শামীম মণ্ডলের বসতবাড়ির আঙিনায় হঠাৎ একটি বন্যপ্রাণীর গর্জন শোনা যায়। বাঘের মতো দেখতে প্রাণীটি দেখে বাড়ির লোকজন আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ছুটে আসেন। পরে গ্রামবাসী প্রাণীটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন এবং কৌশলে অক্ষত অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হন। লোকালয়ে মেছোবাঘ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে শামীম মণ্ডলের বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্যপ্রাণীটি উদ্ধার করেন। বাড়ির মালিক শামীম মণ্ডল বলেন, বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ বাড়ির উঠানে অদ্ভুত গর্জন শুনতে পান তিনি। পরে টর্চলাইটের আলো ফেলতেই বাঘের মতো দুটি প্রাণীকে ওত পেতে বসে থাকতে দেখেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় কৌশলে একটি প্রাণী আটক করা সম্ভব হলেও অন্যটি পালিয়ে যায়। বাড়ির উঠানে বাঘ চলে আসায় রাতে তাঁরা খুব আতঙ্কে ছিলেন। তবে প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করে বন বিভাগের হাতে তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে। এ বিষয়ে হবিরবাড়ী বিট কর্মকর্তা ইফাজ মোর্শেদ শাহিল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মেছোবাঘটি উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রাণীটিকে অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
লোকালয় থেকে মেছোবাঘ উদ্ধার
বিদ্যালয়ের পোশাকে ছাত্রীর আপত্তিকর টিকটক ভিডিও, অতঃপর...
ফেনীর পরশুরামে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক পরে এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টিকটকের জন্য আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ছাত্রীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বক্সমাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যালয় চলাকালে নির্ধারিত পোশাক পরা অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিডিও ও ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটি তদন্তে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর থেকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী হিসেবে তার সব ধরনের সম্পর্কের অবসান হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, এর আগেও ওই শিক্ষার্থীকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ওঠায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বিদ্যালয়ের পোশাকে ছাত্রীর আপত্তিকর টিকটক ভিডিও, অতঃপর...
ভাঙা বাঁশের সাঁকোয় দুর্ভোগে আট গ্রামের মানুষ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাঁকোর এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে কেউ বুকসমান পানি পেরিয়ে, কেউ সাঁতরে আবার কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। সাঁকোটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর নির্মিত ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটির দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার দশক ধরে এ নদী পারাপারে ছোট ছোট ডিঙি ও মাঝারি আকারের নৌকা ব্যবহার করতেন দুই পাড়ের মানুষ। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত স্থানে ইজারাদারের মাধ্যমে নৌকায় পারাপার হতেন তারা। পরবর্তী সময়ে নদীর প্রস্থ কমে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় যুগ ধরে এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে সাঁকোটির কয়েকটি স্থানের বড় অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই ওই এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয়। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমণ্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজারসহ পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী জানান, দুই-তিন মাস ধরে অনেক কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি। কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি। ছেলেমেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক। শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সাইফুল ইসলাম জানায়, সাঁকোটি দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে তাদের খুব কষ্ট হয়। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হয়। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী জানান, ভেঙে যাওয়া সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মাণ করা হলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
ভাঙা বাঁশের সাঁকোয় দুর্ভোগে আট গ্রামের মানুষ
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রামে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে ইউপি সদস্য কামাল মিয়া তার অসুস্থ এক স্বজনকে দেখতে আব্দুল সহিদকে বাড়িতে আসতে বলেন। আব্দুল সহিদ কামাল মিয়ার বাড়িতে গেলে সেখানে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুল সহিদের নেতৃত্বে গ্রামের খোকন মিয়া, সুহেল মিয়া, জাহিদ হাসান, মতিন মিয়া, আলকাছ মিয়া, রাজু মিয়া, নাদির মিয়া, কামাল মিয়া, ছামির মিয়া, আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ আলী, শাহজাদা, জিয়াউর রহমান ও মহিবুর রহমান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রামদা, সুলফি, জাটা ও কিরিচসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলায় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম, আজমান আলী, সুয়েব মিয়া, ফাজিল মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, সুজাত মিয়া ও নার্গিস বেগমসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। গুরুতর আহত সাহাজ উদ্দিন ও আজমান আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসী সামাজিক সালিশের মাধ্যমে হামলায় জড়িত আব্দুল সহিদসহ কয়েকজনকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণাকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এ সংঘর্ষে জড়ান বলে তিনি দাবি করেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল সহিদ বলেন, আগে সাইদুল মেম্বারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেন। আমরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ হয়। এতে আমিসহ আমাদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
আরও পড়ুন
মন্ত্রীর প্রটোকলের ফাঁকে এসিল্যান্ডের সেলফি, ছবি ভাইরাল
জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন থেকে তেল চুরি, মাটির নিচে মিলল গোপন ট্যাংক
হবিগঞ্জে বসতবাড়ি থেকে ১৩৭ বিষধর সাপ উদ্ধার
শনিবার ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়