
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে এক কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রম ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। দমকা হাওয়ায় মাটিতে পড়ে গেছে কৃষক আব্দুর রহমানের পুরো ক্ষেতের আখ।
উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের হাজাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান একজন প্রান্তিক কৃষক। কৃষি কাজই তার সংসার চালানো ও জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বুক বেঁধে দিনরাত পরিশ্রম করে ৫০ শতক জমিতে প্রায় ৮ হাজার আখের চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে তার সেই স্বপ্ন এখন ভাঙনের মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক। পরম যত্নে তিনি আখ চাষ করছিলেন। আখ গাছগুলো বাতাসে হেলে পড়া থেকে বাঁচাতে এখন যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন বা গাছের বাঁশ-খুঁটির সাপোর্ট দেওয়া দরকার তা জোগাড় করার আর্থিক সামর্থ্য তার নেই। চোখের সামনে তিল তিল করে গড়ে তোলা বাগান নষ্ট হতে দেখে হতাশা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ৫০ শতক জমিতে আখের বাগান করতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। গাছগুলো বেশ বড় হয়েছিল, আশা ছিল আখ বিক্রি করে লাভবান হব। কিন্তু হঠাৎ তীব্র বাতাসে সব আখ গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে আমার প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলো।
তিনি আরও জানান, মাটিতে পড়ে যাওয়া আখগুলো এখনও পুরোপুরি বিক্রির উপযোগী হয়নি। পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও সাপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে এগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে।
এনজিওর ঋণ ও ধারের টাকায় শুরু করা এই প্রজেক্টের এমন পরিণতিতে পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আশু পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকার সচেতন জনগণ।
আরটিভি/এমএ




