ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরের বুকে স্কুল, শত প্রতিকূলতার মাঝেও ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সকাল আনুমানিক সাতটা। কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে একজন কিশোরী বাহেরবালী গ্রাম থেকে হেঁটে এসে হাওরের তীরে দাঁড়ালেন। পাশে বাবা শক্ত করে তার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্য হাতে একটি লাঠি দিয়ে তিনি সামনের পানির গভীরতা মাপছেন। নৌকা আসতে দেরি হচ্ছে। তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরও পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী—সবাই সেই একটিমাত্র নৌকার অপেক্ষায়।

স্কুল শুরু হতে তখন আর মাত্র আধঘণ্টা বাকি। কিন্তু প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য নৌকা রয়েছে মাত্র দুটি। বাহেরবালী ও আশেপাশের গ্রামের শিশুদের জন্য এটিই একমাত্র কাছাকাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

পানির বুকে বিদ্যালয়

দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি একটি আশ্রয়কেন্দ্র। চারদিকে বিস্তৃত থইথই পানি, আর তার ঠিক মাঝখানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি তিনতলা ভবন। নিচতলা পুরোটাই ফাঁকা—বছরের অধিকাংশ সময়ই এটি হাওরের পানিতে ডুবে থাকে। শুধু দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পাঠদান চলে, ফলে পুরো ভবনটি পানির ওপর ভেসে আছে বলে মনে হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। পৌঁছানোর একমাত্র উপায় নৌকা।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত এটি 'বাহেরবালী এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল'। প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাস চলে এখানে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশেপাশের যেকোনো স্কুলের চেয়ে বেশি। বছরের প্রায় নয় মাসই স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগেই দুটি নৌকার ব্যবস্থা করেছে। এভাবেই দুর্গম হাওরাঞ্চলের এই জলঘেরা পরিবেশে দিন দিন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপা দাস বলেন, 'নৌকা ধরতে আমাদের অনেক ভোরে উঠতে হয়। কেউ নৌকা মিস করলে সেদিন তার ক্লাসও মিস হয়ে যায়।' বাহেরবালী, পুরাকান্দা, আয়নারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী—এই পাঁচটি গ্রামের তিন শতাধিক ছেলেমেয়ে এখন এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের সামনে যেন এক নতুন সুযোগ খুলে গেছে—শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক অনবদ্য সুযোগ।

রিপার বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, 'স্কুলটা হওয়ার পর থেকে এখানকার মানুষের বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর আগ্রহ অনেক বেড়েছে।' শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন 'এসইএসডিপি' এবং বর্তমান 'সেসিপ' (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে শেষ হয় এবং ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়।

সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে মোট ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ভবন নির্মাণ, শ্রেণি কার্যক্রম চালু এবং সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিবিধ প্রতিকূলতার মুখোমুখি এক বিদ্যালয়

২০১৭ সালের জুলাই মাসে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) ভুক্ত করা হয়। তবে বহেরবালী স্কুলটি এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেলেনি স্বীকৃতি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিাপন চন্দ্র দাস জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, 'সেসময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। আমরা এখন সব কাগজপত্র নতুন করে গুছিয়ে আবারও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি।'

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সারাদেশে নতুন করে এমপিও আবেদনের আহ্বান জানানো হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করে। বর্তমানে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকলেও প্রয়োজনীয় হার্ডকপি ও কাগজপত্র তারা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু হলে স্কুলটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশাবাদী প্রধান শিক্ষক।

২০১৩ সালে যখন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়, তখন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ জনে। পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন শিক্ষক এবং দুইজন পিয়নসহ মোট তিনজন কর্মচারী কাজ করছেন। স্কুলে একটি ল্যাব রুম, একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং একটি শিক্ষক মিলনায়তন রয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা মিলিয়ে ১৪টি সুবিশাল শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্ধেক ফি নেওয়া হয়, আবার অনেকের পুরো ফি-ই মাফ করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ফি ১৫০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির ফি ২০০ টাকা। মেধাভিত্তিক ফলের ওপর ভিত্তি করে অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

প্রধান শিক্ষক জানান, ফি আগে আরও কম ছিল—ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য মাসে ৬০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৮০ টাকা।

কম্পিউটার শিক্ষক হাসান কবির বলেন, 'আমাদের মাত্র একটি ল্যাব রুম আছে। যা আছে তা দিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। ডিসি অফিস থেকে দেওয়া তিনটি মাত্র ডেস্কটপ দিয়ে আমাদের সব ল্যাবের কাজ চলে। সম্প্রতি একটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি মেরামত করতে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। আর একটি ডেস্কটপ একদম চুরিই হয়ে গেছে।' স্কুলটির পথচলা কোনোভাবেই সহজ ছিল না।

এর সবচেয়ে বড় সংকট হলো পানির ওপর দিয়ে ৩০০ শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা না থাকা। ২০১৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ৪০ জন ধারণক্ষমতার একটি নৌকা উপহার দেন। তিন টনের সেই লোহার নৌকাটি এখনও গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করে। নৌকাটি চালু রাখতে এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, 'এখানকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও ভালো হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। খারাপ আবহাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে ভয় পায়, অভিভাবকরাও তাদের পাঠাতে চান না।' প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে এবং বিকেলে ছুটির পর নৌকাটি কয়েকবার আসা-যাওয়া করে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষককে পারাপার করে।

যে অনুপ্রেরণায় টিকে আছে বিদ্যালয়টি

একপর্যায়ে নৌকাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের যাতায়াত চরম হুমকির মুখে পড়ে। নৌকাটি মেরামত না করা হলে স্কুলে আসা-যাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত—তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠকে বসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই কমিটির উদ্যোগে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে অবশেষে নৌকাটি মেরামত করা হয়।

প্রধান শিক্ষক জানান, শুরুতে শিক্ষার্থীরা একটিমাত্র নৌকায় যাতায়াত করত। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' থেকে পাওয়া অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি করা হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে 'ইত্যাদি' এই বিদ্যালয়কে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়। সেই টাকায় স্কুল রং করা, দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি, ফ্যান বসানো এবং মেঝের কিছু অংশ টাইলস ও প্লাস্টার করে সংস্কার করা হয়।

তা সত্ত্বেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, 'মাঝে মাঝে যখন বেশি শিক্ষার্থী থাকে, তখন আমাদের পুরোটা পথ নৌকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আরও দু-একটা নৌকা থাকলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।'

মাঝি রমিজ উদ্দিন বলেন, 'আমি একবারে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পারাপার করি। এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। একবার নৌকাটি ডুবেও গিয়েছিল—তবে ছেলেমেয়েরা সাঁতার জানার কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।'

খেলার মাঠ ও সুপেয় পানির সংকটও এই বিদ্যালয়ের নিত্যসঙ্গী। মাঠটি বছরের পর বছর মাসজুড়ে পানিতে নিমজ্জিত থাকে, তাই শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সুযোগ পায় না। পানির অভাবও রয়েছে—আগে দুটি পানির ট্যাপ ছিল, যার একটি ভেঙে অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নতুন একটি ট্যাপ বসানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'মাঠটি ব্যবহারের উপযোগী করতে চারপাশ থেকে মাটি এনে পুরো মাঠ উঁচু করতে হবে। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন, যা স্কুলের পক্ষে একা জোগাড় করা কঠিন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা নতুন আরেকটি পানির ট্যাপের জন্যও আবেদন করেছি।'

মাঠ নিয়ে তার গলার স্বরে কিছুটা ক্ষোভ ও আক্ষেপ ফুটে ওঠে—মাটি কেটে উঁচু করা গেলে বাচ্চারা খেলতে পারত, যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হতো; সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি নৌকা পাওয়া গেলে মূল সমস্যাটি অনেকটাই লাঘব হতো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও বহেরবালী, পুরাকান্দা, বোয়ালী, আয়নারগোপ ও পারকচ্ছাপ্লা—এই পাঁচটি হাওরসংলগ্ন গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীদের ফসলি জমির সরু আইল ধরে এক থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়।

রিপা দাস বলেন, 'মূল ভূখণ্ড থেকে স্কুলে আসার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। তাই বর্ষা হোক কিংবা শুষ্ক মৌসুম, আমাদের কষ্ট একই থেকে যায়।'

বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার তাদের লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানতে পেরেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সমস্যাগুলো উল্লেখ করে গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি আবেদন জমা দেন। তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।'

জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুন নাহার মাকসুদা বলেন, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। তিনি বলেন, 'সময় লাগবে, তবে আমরা একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।' দুর্গম এই হাওরাঞ্চলে আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় এই স্কুলটিই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের শিক্ষার মান কোনো অংশেই কম নয়—বার্ষিক ফলাফল নিয়মিতই ভালো হয়, যেখানে এসএসসির পাসের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের ঘরে থাকে। এই দুর্গম হাওরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফলাফল মোটেও ছোট কোনো অর্জন নয়।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'এ বছর আমাদের এসএসসির পাসের হার ৭৬.০৬ শতাংশ। সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পেয়েছে। আমাদের পাসের হার কখনোই ৭০-এর নিচে নামেনি। সাধারণত ৮০ শতাংশের ওপরেই থাকে। এবার সব জায়গায় ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে, আমাদেরও তা-ই। তবে এবার বাজিতপুর উপজেলার সবকটি স্কুলের মধ্যে আমাদের স্কুল প্রথম হয়েছে।'

ভবনের ছাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে ফুল ও ফলের একটি সুন্দর বাগান তৈরি করেছেন। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন হাওরের বুকে ভেসে থাকা একটি ছোট সবুজ দ্বীপ। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ জানান, 'এত সুন্দর একটি স্কুলে পড়তে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমাদের শিক্ষকরা খুব যত্ন নিয়ে পড়ান এবং নিশ্চিত করেন যেন আমরা প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন বুঝতে পারি।'

ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণ, পানিতে ডুবে থাকা খেলার মাঠ, সুপেয় পানির সংকট, এমপিও স্বীকৃতির দীর্ঘ প্রতীক্ষা—এই কষ্টগুলো নিত্যসঙ্গী হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের এগিয়ে চলা থেমে নেই।

বাহেরবালীর তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছে স্কুলে যাওয়া মানে এখনো নৌকার জন্য অপেক্ষা দিয়ে শুরু হওয়া এক যাত্রা। প্রতিদিন সকালে তারা পানি পার হয়ে পৌঁছায় সেই শ্রেণিকক্ষে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের সীমা ছাড়িয়ে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাদরাসায় যাওয়ার পথে তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদরাসায় যাওয়ার পথে এক তরুণীকে (২১) একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাদরাসায় যাওয়ার পথে তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩
উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে সুন্দরবনসহ উপকূলে আশ্রয় নিলো ফিশিংবোটবহর
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল বঙ্গোপসাগরে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিংবোট সুন্দরবন ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বোট উপকূলের দিকে ফিরছে। এর মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে।
উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে সুন্দরবনসহ উপকূলে আশ্রয় নিলো ফিশিংবোটবহর
বরিশালে মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু
বরিশালে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে জিএম মনির হোসেন (৫৪) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বরিশালে মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির পোস্টে লাইক দিয়ে শিক্ষক বরখাস্ত
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা একটি ভিডিওতে লাইক দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির পোস্টে লাইক দিয়ে শিক্ষক বরখাস্ত
পাইকগাছায় ১২০০ গাছ রোপণ, প্রতিটি চারার দায়িত্বে এক শিক্ষার্থী
খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দিয়ে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, মসজিদ-মন্দির, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিষদ প্রাঙ্গণ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ২০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
পাইকগাছায় ১২০০ গাছ রোপণ, প্রতিটি চারার দায়িত্বে এক শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ভাগ্য ফেরাতে বিদেশে যাওয়া হলো না নিরবের, জীবনে ‘ঘোর অন্ধকার’
মাকে মারধরের জেরে ঝগড়া, বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু