
ভোলার চরফ্যাশনে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৩৪ একর জমি দখলের চেষ্টা এবং স্লুইসগেট খুলে রোপণ করা আমন ধান পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাসেমগঞ্জ এলাকায় দুই শতাধিক কৃষক পরিবারের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মাদ্রাজ, পশ্চিম এওয়াজপুর ও উত্তর ফ্যাশন মৌজায় প্রায় ২৩৪ একর জমি মো. ইমাম হোসেন, মো. জাকির হোসেন ও মো. সিহাব ক্রয় করেন। ওই জমি নিয়ে মুনসুর গংয়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। জমি নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে মুনসুর গং প্রায় ১৪টি মামলা করেছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ও কৃষকরা।

কৃষকরা বলেন, তিন জমির মালিকের কাছ থেকে জমি লগ্নি নিয়ে দুই শতাধিক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। বর্তমানে তারা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু মুনসুর ও তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে স্লুইসগেট খুলে জমিতে পানি ঢুকিয়ে রোপণ করা ধান নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে একের পর এক মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
জমির মালিক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ১৯৭৪ সালে হালিমুর রহমান গংয়ের কাছ থেকে এসএ খতিয়ানমূলে আব্দুস সালাম গং জমি ক্রয় করেন। পরে দিয়ারা জরিপ চলমান অবস্থায় হালিমুর গংয়ের ওয়ারিশরা জমি বিক্রির বিষয়টি গোপন করে এহতেশাম গংয়ের নামে দিয়ারা জরিপ করান। পরবর্তীতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দিয়ারা জরিপের বিরুদ্ধে আব্দুস সালাম গংয়ের পক্ষে রায় হয়।
ইমাম হোসেনের দাবি, মুনসুর এহতেশাম গংয়ের চাষি ছিলেন। তিনি গোপনে দুটি নোটারি করে ২০১৫ সাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করেছেন। বর্তমানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুনসুর গংয়ের পক্ষে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। সম্প্রতি দুই শতাধিক কৃষক ওই জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু স্লুইসগেট খুলে জমিতে পানি ঢুকিয়ে ধান নষ্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুনসুর ও তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টির সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে সংসদ সদস্য উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল আলম প্রিন্স ও সদস্যসচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল কমিশনারকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। স্থানীয়ভাবে বিচার চলমান থাকা অবস্থায় তাকে ও রাসেল কমিশনারকে জড়িয়ে মুনসুর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান ইমাম হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুনসুরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, কৃষকরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/জেএমএ


