
টাঙ্গাইলে ৯ বছরের এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুটি। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক হাফেজ হানিফ আলীকে আটক করেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ওই মাদরাসায় হাফেজ হওয়ার আশায় ৯ বছরের এক শিশু ভর্তি হয়। ছয় পারা কোরআন মুখস্থও করে সে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পড়া শেষ করে নিজের কক্ষে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে মাথার চুল টেনে দিতে বলেন হাফেজ হানিফ আলী। পরে মধ্যরাতে তাকে নির্যাতন করে নিজের কাছেই রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউকে বললে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় শিশুটিকে। পরদিন শুক্রবার অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তান এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের কোমল শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।
ঘটনার খবর সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন বর্তমান অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ। তবে আগের ঘটনায় সতর্ক হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না বলে মন্তব্য করেন তারা।
ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাদরাসার সভাপতি কাওসার আহম্মেদ কায়েস বলেন, আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরটিভি/টিআর




