
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামি মিরাজুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবুল কাশেম হত্যা মামলার সব আসামি বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নিয়ে তারা নিজ এলাকায় ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জামিনে থাকা আসামি মিরাজুল ইসলাম জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কুল্যাগাছা বাজারে ওষুধ কিনতে যান।
এ সময় বাজারে ওত পেতে থাকা সেলিম, শয়ন, লালচান ও পারভেজসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে মিরাজুল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এরপর তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে থাকে। মিরাজুল রক্তাক্ত ও অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আসামিরা এলাকায় ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। জামিনে থাকা ১১টি পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে যেতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জামিনপ্রাপ্তদের ওপর হামলা এবং তাদের স্বজনদের ওপর অব্যাহত হুমকির মুখে পড়া ১১টি পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এলাকায় নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করার সুযোগ সৃষ্টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আরটিভি/এমএম




