
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীনের দুই ছেলেকে মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র দাবি করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও উপজেলার অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউসি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন, তার পরিবারের সদস্য এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মফিজ উদ্দীন অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি সোর্সের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে তার দুই ছেলেকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের সঙ্গে তার দুই ছেলে কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মফিজ উদ্দীন বলেন, তার ছোট ছেলে মো. মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য বিভাগে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অপর ছেলে মো. আল-মামুন পুলিশের সাবেক এএসআই। মেহেদী হাসানকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার এবং আল-মামুনকে পলাতক আসামি করা হলেও তাদের কেউই মাদকের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
মামলায় স্থানীয় একটি সোর্সের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন মফিজ উদ্দীন। তার দাবি, ওই সোর্সের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে তার দুই ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতে পরিবারটি সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি-৫ জানায়, ওই দিন ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি টহল অপারেশন দল শিবগঞ্জের উমরপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মেহেদী হাসানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়ির সামনে খড়ি রাখার ঘরের ভেতর থেকে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. আল-মামুনকে (৪০) পলাতক আসামি করে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়।
এসআরবি-৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মফিজ উদ্দীন তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ইউনিট কমান্ডার ও দুলভপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদ সনু বলেন, মফিজ উদ্দীনের পরিবারের পাশে রয়েছেন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্তে কেউ নিরপরাধ প্রমাণিত হলে যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃতভাবে কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাদুল, সাত্তার, সেরাজুল, আনিসুর, হান্নানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। মফিজ উদ্দীনের স্ত্রী শেফালী বেগম, মেয়ে রিনা খাতুনসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা তাদের দুই ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারাও ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএম



