
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ছাগলে শিমখেতের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে মমতাজ বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মারধরের শিকার হয়ে মমতাজ বেগম এবং তার দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন চেয়ারম্যানপাড়ার ছফিরউদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম, তাঁর দুই ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) ও আবদুল মোত্তালেব(৪৪)। তাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। আব্দুল মোত্তালেবকে গত বুধবার বিকেলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হামলার শিকার ওই পরিবারটি। মমতাজ বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার সকালে মমতাজ বেগমের পোষা একটি ছাগল একই ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া এলাকার প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলামের শিমখেতে ঢুকে পড়ে। ছাগলটি শিম গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে ওই দিন বিকেলে সিরাজুল ইসলাম মমতাজ বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এ সময় মমতাজের ছেলে মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সিরাজুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
মমতাজের বড় ছেলে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, পরদিন মঙ্গলবার সকালে আগের দিনের ঘটনার জের ধরে সিরাজুল তার ছেলে সোহেল রানা (২৫) অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়িতে এসে আবারও গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ঘরের দরজা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর মোয়াজ্জেম ও আবদুল মোত্তালেবের সঙ্গে সিরাজুলের সঙ্গে আসা লোকজনের মারামারি হয়। তার ভাই মোয়াজ্জেমের কপালে, কানে, ডান বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মেজোভাই আব্দুল মোত্তালেবের বাম হাতে জখম হয়। এ সময় তার মা মমতাজ বেগমকেও মারধর করা হয়। তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং ঘরের ওয়ারড্রপে রাখা টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন মমতাজ বেগমের বড় মেয়ে সামশুন নাহার।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেথা যায়, জখম হওয়া জায়গায় সেলাই দেওয়া হয়েছে মোয়াজ্জেমের। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন তিনি। পাশেই বসা তার স্বজনরা।
স্বজনরা জানান, আহত অবস্থায় দুই ভাইকে প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে
এসব অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, শুক্রবার ঘটনাস্থলে মোশারফ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সব কিছু শুনেই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/ এসকেডি



