
নওগাঁর মান্দায় ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মান্দা থানা পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও মান্দা ও মোহনপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা। ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে তার পূর্বপরিচিত এক নারী গত ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার পরিকল্পনায় ওই নারীসহ অন্য আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই বাড়িতে কথাবার্তার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আনোয়ার হোসেনকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে এক নারী আসামির সঙ্গে জোরপূর্বক তার অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।
পরে চাঁদার টাকা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর মান্দা থানায় মামলা করা হয়। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগে মান্দা ও মোহনপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




