
চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় পাঁচ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালভর্তি একটি মিনি পিকআপ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযান উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য চালগুলো বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত স্থানে বিতরণ না করে চালগুলো গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ওই চাল লাকসামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মিনি পিকআপে করে নেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎপর হয় উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের তৎপরতার মুখে চালভর্তি গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে এর আগেও চাল আত্মসাৎ বা অবৈধ বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
জব্দ করা চাল পরে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি গোডাউন) পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি এই চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে অন্যত্র নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরটিভি/টিআর


