
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনার ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে মোট ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
জেলার ৯টি উপজেলা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার সমস্ত মণ্ডপে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সরকারের এ সময়োপযোগী পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় শাখাগুলোর সমন্বয়ে এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
দুর্গোৎসব শুরুর আগেই যাতে প্রতিটি মণ্ডপে বরাদ্দকৃত চাল সঠিকভাবে পৌঁছে যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে।
খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু সরকারের এ সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, সরকারি এ বরাদ্দ সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষদের উৎসব পালনে বড় ধরনের সহায়তা করবে। একইসঙ্গে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার সংস্থাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর ৭৭টি পূজামণ্ডপের অনুকূলে মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, শনিবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ নগদ অর্থ সহায়তা সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। নগরীর প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উৎসব পালিত হতে পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সর্বদা পাশে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম




