
রাজশাহীতে নিজ বাড়ি থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহকর্মীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর কেদুর মোড় এলাকার ‘বেলী ভিলা’ নামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বেলী খাতুন (৭০) ওই এলাকার মৃত ফখরুদ্দীনের স্ত্রী। তার চার সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে বিদেশে থাকেন এবং অন্য ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে বেলী খাতুনের স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি ওই বাড়ির দোতলায় একাই থাকতেন। রোববার রাতে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভাড়াটিয়া গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা ও প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাড়ির ভাড়াটে মো. মারুফ জানান, শুক্রবার বৃদ্ধাকে শেষবারের মতো বাড়ির বাইরে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। কিন্তু রোববার রাতে তার বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে, ওই নারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়ির সামনে স্থানীয়দের ভিড় জমে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী গণমাধ্যমকে বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। দুই থেকে তিন দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের গৃহকর্মীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরটিভি/আইএম



