
খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি।
রোববার (১১অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ ঢাকী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই নদীর ভাঙনে পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায়ও বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। সেখানে সড়কেরও বড় অংশ নদীতে চলে গেছে।
এদিকে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার সংস্কারেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো পরিবার।
দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ এরইমধ্যে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরে। এরইমধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।
তবে জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি নদীভাঙন ঠেকাতে টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে স্থানীয়রা দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
আরটিভি/এমএম


