
মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় চালবোঝাই পিকআপসহ
জব্দ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার দিন রাতেই সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমকে সদর মডেল থানার পুলিশ আটক করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, চালগুলো নির্ধারিত স্থানে বিতরণ না করে গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চাল লাকসামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মিনি পিকআপযোগে স্থানান্তরের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎপর হয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে চালভর্তি গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪৯৩০ কেজি (প্রায় ৫ টন) চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জব্দকৃত চালগুলো পরবর্তীতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি গোডাউন) পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই আলোকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ হয়নি।
চাল বিতরণ না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম অভিযান সম্পর্কে বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাই জেলেদের বরাদ্দ চার জেলার বাহিরে যাচ্ছে। ওই চাল খুঁজে এবং অভিযান করে আটক করি। সেই আলোকে অভিযান করে সর্বশেষ শহরের বিপনীবাগ থেকে পিকআপসহ চাল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি জানান, তার কাছে মেসেজ এসেছে এই চাল লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত। এই কাজে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেবে।
সরকারি এই চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে পাচারের উদ্দেশ্যে ভিন্ন স্থানে নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।
আরটিভি/এমএইচজে


