
ঢাকার আশুলিয়ায় ২ বছরের শিশু অপহরণের ঘটনায় অপহরণকারী বেলী বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার ও অপহৃত শিশু মীম আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসআরবি-৪ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকা থেকে শিশু মীম আক্তারকে তার নিজ বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ এর অভিযানিক দল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪ এর যৌথ অভিযানিক দল ১২ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন খালপাকুটিয়া দেওলাবড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার এবং তার হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী মীম আক্তারের পরিবার বটতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর মা একজন গার্মেন্টস কর্মী। গার্মেন্টসে ডিউটি করাকালীন সময় তার মেয়ে মীম আক্তারকে দেখাশোনা করার জন্য গ্রেপ্তার আসামি মোছা. বেলী বেগমকে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখেন। ঘটনার দিন বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবার শিশুটিকে বেলী বেগমের কাছে দেখাশোনা করার জন্য রেখে গার্মেন্টসে চলে যায়। একই তারিখ রাত ১০টার দিকে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান মেয়ে ও গৃহকর্মী বাসায় নেই। পরে শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায় আসামি বেলী আক্তার ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভুক্তভোগীর মা রাবেয়া আক্তারের বর্তমান বাসার কাছে ঘর ভাড়া নেন এবং ৮ সেপ্টেম্বর মীমকে অপহরণ করে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। আসামি সম্পর্কে বাড়িওয়ালা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেও সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেলী আক্তারের ডিভোর্স লেটার নোটিশের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের একটি ঠিকানা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও এলাকাবাসীর সহায়তায় বেলি আক্তারের তৃতীয় স্বামীর বর্তমান ঠিকানা খাল পাকুটিয়া, দেওলাবাড়ি, ঘাটাইল থানা এলাকা থেকে বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অপহৃত মীমকে জীবিত উদ্ধার করে এসআরবি। পরবর্তীতে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এসআরবি-৪।
আরটিভি/এমএইচজে




