
বরগুনার আমতলীতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন জেলেরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, শিকার ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০০ জেলের জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে, শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
জেলে জালাল, খলিল ও জামাল গাজী জানান, তাদের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম নেই—এমন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। বিতরণ তালিকার স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
জেলে জালাল বলেন, আমার জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল পাইনি। তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মতো অনেক জেলে চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন।
জেলে খলিল অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে চাল পাননি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্য খবির হোসেন তাদের জানিয়েছেন, তালিকায় তাদের নাম নেই। তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জেলে জামাল গাজী বলেন, আমি নিবন্ধিত জেলে। তারপরও চাল পাইনি। আমার নাম তালিকায় নেই বলে জানানো হয়েছে।
নাশির মাল নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ জন নিবন্ধিত জেলে চাল নিতে গিয়ে ফিরে গেছেন। তার প্রশ্ন, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হলে তারা কেন চাল পেলেন না?
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বশির হাওলাদার। তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত ২৭০ জন জেলেকেই চাল দেওয়া হয়েছে। কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।
আমতলী খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি চাল খাদ্যগুদামেই রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমতলী খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (এলএসডি) মো. তাইফুর রহমান বলেন, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের জন্য কত মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি জেনে বলতে হবে।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল পাননি—এমন কারও অভিযোগ তিনি পাননি।
তবে বরাদ্দ, চাল উত্তোলন ও বিতরণ তালিকা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।
আরটিভি/টিআর




