
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া শুক নদীর বুড়ির বাঁধে মাছ শিকারের উৎসবে মেতেছেন হাজারো মানুষ। শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে মাছ ধরার সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকে সেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তবে এবার আগের বছরের তুলনায় মাছ কম পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন অনেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বুড়ির বাঁধের পাঁচটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। পানি কমে এলে শনিবার ভোর থেকে আশপাশের কয়েক গ্রামের জেলে এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ মাছ ধরতে নামেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ মাছ ধরতে বাঁধ এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তাঁদের কারও হাতে জাল, কারও হাতে পলো বা খোঁচা। মাছ ধরার সরঞ্জাম না থাকায় কেউ কেউ কাদাপানিতে হাত দিয়েই মাছ ধরছেন। এ ছাড়া ফিকা জাল, লাফি জাল, কারেন্ট জাল, রিং জাল ও চটকা জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে মাছ শিকারে নেমেছেন অনেকে।

জেলা শহরের বাসিন্দা মিতুল হাসান বলেন, প্রতিবছরই তিনি এখানে মাছ ধরতে আসেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মানুষ আসেন। সবাই মিলে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। তবে এবার মাছ তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। দেশি মাছ দেখা গেলেও ব্যবসায়ীদের পাতা রিং জালের কারণে সাধারণ শিকারিরা মাছ কম পাচ্ছেন।
মাছ ধরতে আসা জেলেরা বলেন, জলকপাট কয়েক দিন খোলা থাকে। এ সময় মাছ ধরার সুযোগ পান সবাই। প্রথম দিনেই মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। তবে গত দুই-তিন বছর ধরে এখানে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। রিং জাল ও কারেন্ট জালের কারণে দেশি মাছের পরিমাণও কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক জানান, শখের বশে ও আনন্দের জন্য প্রতিবছর তিনি এখানে মাছ ধরতে আসেন। শনিবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাছ ধরে পেয়েছেন দুই কেজির মতো পুঁটি ও টেংরা। এসব মাছ বাড়িতে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করে খাবেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা দিতে শুক নদীতে জলকপাট নির্মাণ করা হয়। পরে এর নাম রাখা হয় বুড়ির বাঁধ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এলাকার উঁচু জমিতে চাষাবাদের জন্য এখানে পানি আটকে রাখা হয়। ওই পানিতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ এসব পোনার দেখভাল করে। শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এলাকাটি।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, ১৯৫১-৫২ সালের দিকে বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। বাঁধের সামনে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আটকে রাখা পানিতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে। শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর মাছ ধরার জন্য এলাকাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আরটিভি/এমএইচজে


