ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মধুমতির তীব্র ভাঙনে ঝুঁকিতে ৩০০ পরিবার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে মধুমতি নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে শতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, কয়েকশ একর ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ৩০০ পরিবার, আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাকা সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তারা দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, আমডাঙ্গা এলাকায় মধুমতি নদীর উত্তর পাড়ে বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ভাঙনের চিহ্ন। নদীর মধ্যে ডুবে থাকা নারকেল, সুপারি ও কলাগাছের অগ্রভাগ দেখে বোঝা যায়, একসময় সেখানে বসতি ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত এক দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি ও অসংখ্য বসতবাড়ি। এতে এলাকার বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী বাপ্পি শেখ জানান, গত মৌসুমে আমডাঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবারও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে।

অহিদ মুন্সি জানান, তিন বছরে তার বাড়ি দুবার ভেঙেছে। এবারও তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। তার দাবি, চলতি বছর তার মতো অন্তত ১০০ পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। বারবার পাউবোর কাছে গিয়েও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ইনসান মোল্লা জানান, নদীতে তার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। মুনছুর মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহে চোখের সামনে এলাকার একটি বড় একতলা মসজিদ নদীতে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হোসেন বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের শিকার হলেও আমডাঙ্গার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্ষায় নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে। আমডাঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ৭০০ মিটার স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিএনপি রাজনীতি করে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মানুষকে ভোলানোর জন্য, কথা বলে ভোট নেওয়ার জন্য রাজনীতি করে না বিএনপি। বিএনপি রাজনীতি করে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য,শ্রেণি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
বিএনপি রাজনীতি করে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
পারিবারিক বিরোধে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুর শরীরে গরম পানি নিক্ষেপ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় জমি-জমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকন্যার গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
পারিবারিক বিরোধে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুর শরীরে গরম পানি নিক্ষেপ
‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করে নিল রেল কর্তৃপক্ষ
রাজধানী ঢাকা থেকে সাড়ে ৯ শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে পৌঁছেছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। এসময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের স্টেশন কর্তৃপক্ষ বরণ করে নেয়।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে পৌঁছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন। প্রথম যাত্রায় ট্রেনে ৯৬৫ জন যাত্রী ছিলো। ট্রেনটি আজ সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে  ৮২৪ জন যাত্রী নিয়ে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের ঢাকা-কক্সবাজার বর্ধিত রুটে চলাচল উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও পাথর ছোড়ার মতো অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানান রেলমন্ত্রী। কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদিন বাসসকে বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রাতে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার এসে পৌঁছে। কক্সবাজারে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমাতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এই মহানগর এক্সপ্রেস চালু করা হলো। বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। নতুন এ সেবার মাধ্যমে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। আরটিভি/এসআর
‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করে নিল রেল কর্তৃপক্ষ
সুন্দরবনে ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যু ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর তাদের জিম্মিদশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। তবে অভিযানের সময় বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবনে ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার
পানিতে ডুবে আছে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি, বিপাকে সাতক্ষীরার ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার কারণে ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা যায়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এতে বিপাকে পড়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক।  জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে বাধা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলার তালা উপজেলার শাকদাহ বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে।  স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ বলেন, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তারা সেখানে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ এক দশক আগেও তাদের জমিতে প্রচুর আমন ধান উৎপাদন হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধান চাষ করা গেলেও অন্য ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পানিতে চারণভূমি ডুবে থাকায় গরু, ছাগল ও মহিষ পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-এলাহী বলেন, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সারা বছরই জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন ও বসতবাড়িতে এর প্রভাব পড়ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং সরকারি খাল দখলমুক্ত করে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, পানি জমে থাকায় সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। এতে ফসলের পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রম ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন কৃষকেরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরিফুল বলেন, জলাবদ্ধতায় নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়। দূষিত পানিতে চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশীয় মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মন্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার উপযোগী ফসলের জাত নির্বাচন, বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বাড়াতে হবে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পানিতে ডুবে আছে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি, বিপাকে সাতক্ষীরার ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক
আরও পড়ুন
সাপের কামড় খেয়ে সেই সাপ নিয়েই হাসপাতালে বৃদ্ধ
৭০% কাজ শেষ, এর মাঝেই বাতিল হলো নবগঙ্গা সেতুর চুক্তি
এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী: প্রথম দিনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
নড়াইলে মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা