
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে মধুমতি নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে শতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, কয়েকশ একর ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ৩০০ পরিবার, আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাকা সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তারা দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, আমডাঙ্গা এলাকায় মধুমতি নদীর উত্তর পাড়ে বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ভাঙনের চিহ্ন। নদীর মধ্যে ডুবে থাকা নারকেল, সুপারি ও কলাগাছের অগ্রভাগ দেখে বোঝা যায়, একসময় সেখানে বসতি ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত এক দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি ও অসংখ্য বসতবাড়ি। এতে এলাকার বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী বাপ্পি শেখ জানান, গত মৌসুমে আমডাঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবারও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে।
অহিদ মুন্সি জানান, তিন বছরে তার বাড়ি দুবার ভেঙেছে। এবারও তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। তার দাবি, চলতি বছর তার মতো অন্তত ১০০ পরিবারের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। বারবার পাউবোর কাছে গিয়েও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ইনসান মোল্লা জানান, নদীতে তার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। মুনছুর মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহে চোখের সামনে এলাকার একটি বড় একতলা মসজিদ নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হোসেন বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের শিকার হলেও আমডাঙ্গার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্ষায় নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে। আমডাঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ৭০০ মিটার স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




