
ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই দিনের আলোতে মেঘনা নদীতে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে মনপুরার চারপাশের নদীতে শত শত মাছ ধরার নৌকা ও ফিশিং বোট চলাচল করতে দেখা গেছে। এ সময় মৎস্য বিভাগের কার্যকর তদারকি ও অভিযান না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়েই অনেক ফিশিং বোট নদীতে মাছ শিকার করছে। তবে এসব নৌকার বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না।
মনপুরার জনতা ঘাটের বাসিন্দা রফিক মাঝি বলেন,আমাদের এই ঘাটে ৭০ থেকে ৮০টি ফিশিং বোট ছিল। নিষেধাজ্ঞার মাঝামাঝি সময়ে সেগুলোর অনেকগুলো মাছ শিকারের জন্য সাগরে চলে গেছে।
লতাখালী এলাকার বাসিন্দা মুজাম্মেল মাঝি বলেন,সকাল থেকে নিষেধাজ্ঞা চলার মধ্যেই শত শত নৌকায় মাছ ধরা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তারা টহল দেন না। তাঁদের টাকা দিলে তাঁরা চুপ করে থাকেন বলে আমাদের অভিযোগ।
তালতলা স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা নিরব মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পাঁচ দিন পর থেকেই তাঁদের ঘাটের অসংখ্য বোট নদীতে মাছ শিকারে চলে যায়। এসব বোট বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ঘাটে ফিরবে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এত দিনেও এসব বোটের বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
নিরব মাঝি আরও বলেন,নিষেধাজ্ঞা এখনো শেষ হয়নি। অথচ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শত শত নৌকা মাছ শিকার করছে। কিন্তু মৎস্য অফিসের কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অবাধে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ এবং মৎস্য বিভাগের তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জয়ন্ত কুমার অপু বলেন,মনপুরার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
আরটিভি/এসআর


