
ফরিদপুরের ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে দুপুরে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৯ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এমন ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি; বরং ওই শিক্ষকের নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৯ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


