ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

কোটি টাকার মডেল মসজিদে নামাজ পড়েন না সাতজনও

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ছবি: আরটিভি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি অবস্থানগত কারণে প্রত্যাশিত জনসেবা দিতে পারছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভাসানচর ইউনিয়নে নির্মিত এ মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মুসল্লির উপস্থিতি খুবই কম বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো ওয়াক্তে মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মাঝে মাঝে ফজরের ওয়াক্তে দু-একজন মুসল্লিরও দেখা মেলে। অথচ উপজেলা পরিষদ চত্বর কিংবা সদর সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করা হলে সরকারি দপ্তরে সেবাগ্রহণ করতে আসা মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই এর সুবিধা নিতে পারতেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি মডেল মসজিদ শুধু অবকাঠামোগত সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক সেবাও নিশ্চিত হবে? মসজিদটির বর্তমান ব্যবহার, অবস্থান এবং নির্মাণের সময় স্থান নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সরকারের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল শুধু নামাজ আদায়ের স্থান তৈরি করা নয়; বরং মসজিদকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ইমাম প্রশিক্ষণ, পাঠাগার, গবেষণা, শিশু ও গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, পবিত্র কোরআন শিক্ষার সুযোগ, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন এবং অতিথিশালার ব্যবস্থাও প্রকল্পের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করায় এসব সুবিধা কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণব্যয় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উপকূলীয় এলাকার জন্য ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজনের ভাষ্য, উপজেলা সদরে মসজিদটি নির্মাণ করা হলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আসা মানুষও নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, মসজিদটির বর্তমান অবস্থানে যাতায়াতের সুবিধা ও আশপাশের জনবসতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। তাদের দাবি, মসজিদটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

মসজিদটির নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছিল, কোন প্রাক্কলনে কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে, জমি কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মসজিদটির ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে নির্মাণের সময় স্থান নির্বাচন, প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পুলিশের উপর হামলা, নিষিদ্ধ দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৮
পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলায় রাজনীতি নিষিদ্ধ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০) সহ তার মা, বাবা, ছোট বোন ও বন্ধুসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের উপর হামলা, নিষিদ্ধ দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৮
সাজেকে অবরোধ শিথিলের দিনে আরেক সংগঠনের অবরোধ
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় টানা ১০ দিনের অবরোধ শেষে রোববার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করে। 
সাজেকে অবরোধ শিথিলের দিনে আরেক সংগঠনের অবরোধ
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
টাঙ্গাইলে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোরদের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় অসুস্থ বাবাকে হারান মো. আরাফাত খান। এরপর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। এতে বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখাও। এমন কঠিন সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পোশাক কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করে একদিকে পরিবারের খরচ চালিয়েছেন, অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। বোনের সেই ত্যাগ আর নিজের অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন আরাফাত। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। আরাফাতের এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। তবে নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব বড় বোনকেই দিতে চান তিনি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে আরাফাত। বাবাকে হারানোর পর একসময় পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা তার স্বপ্নগুলোকে থমকে দিয়েছিল। কিন্তু বড় বোনের সাহস ও সহযোগিতা তাকে আবারও পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। আরাফাত বলেন, বাবাকে হারানোর পর তার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায়। ভেবেছিলেন, তার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন তার বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। তার বড় বোনের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বোনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকের কঠিন কাজ করেও তার বড় বোন যেভাবে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরাফাত জানান, তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় নিজের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। এদিকে ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত হলেও নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন বড় বোন রুবি আক্তার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। সংসারের খরচ জোগাতে যোগ দেন পোশাক কারখানায়। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও ভাইয়ের পড়ালেখা বন্ধ হতে দেননি তিনি। রুবি আক্তার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে হচ্ছে। তাই পোশাক কারখানার মতো কঠিন কাজে যোগ দিয়ে চেষ্টা করেছেন সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আরাফাত মেধাবী। তার জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আরাফাতকে সাফল্য এনে দিয়েছে। বড় বোনের ত্যাগ আর নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এই ফলাফলে এখন আনন্দে ভাসছে আরাফাতের পরিবার। মির্জাগঞ্জ উপজেলার একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
আরও পড়ুন
বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু: মির্জা আব্বাস
বাইশরশি জমিদারবাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ
ধানক্ষেতে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আ.লীগ নেতার
ফরিদপুরের সদরপুর ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটির আনন্দ র‍্যালি