
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইলে মুফাসসিরে কোরআন ও ইসলামি বক্তা মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারীর তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরআনের তাফসির উপস্থাপনে বাধা এবং একপর্যায়ে প্রধান বক্তার গাড়ি ভাঙচুরের উদ্দেশ্যে একদল যুবকের তেড়ে আসার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন।
এ ঘটনায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন হেলালী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী গণমাধ্যমকে জানান, মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত তিনি মগবাজার দিলু ব্যাপারী জামে মসজিদের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, মাহফিলে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার সময় এবং পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, এশার নামাজের পর আলোচনা শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টা ২০ মিনিটে তার আলোচনা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা আট মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর রাত ৯টা ২৮ মিনিটে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহফিলে উপস্থিত হন। এ সময় কয়েকবার স্লিপ পাঠিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাওয়া হয়। প্রধান বক্তা শুধু সংসদ সদস্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ চাইলেও তাকে মঞ্চে বসিয়ে রেখে ছয়জন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাওলানা সাদিকুর রহমানের অভিযোগ, তাফসিরুল কোরআনের আলোচনা বন্ধ রেখে প্রায় ৪০ মিনিট রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় তাকে মঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। আয়োজকদের এমন আচরণে স্থানীয় জনগণ এবং মঞ্চে উপস্থিত অন্য আলেমরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মাহফিলের প্রচারে রাত ৯টা পর্যন্ত আলোচনা চলার কথা থাকলেও তাঁকে রাত ১১টা পর্যন্ত মাহফিল চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘ বক্তব্যের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার আলোচনা শেষ করার সুযোগ ব্যাহত হয়।
আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহফিলের ভিডিওর মন্তব্যের ঘরেও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একপর্যায়ে প্রধান বক্তা মঞ্চ ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও আয়োজক কমিটির ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানান মাওলানা সাদিকুর রহমান।
তার ভাষ্য, রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘ বক্তব্যের কারণে তাকে মঞ্চে বসিয়ে না রাখা হলে তিনি আরও সময় নিয়ে কোরআনের তাফসির করতে পারতেন।
এ ঘটনাকে আলেমদের প্রতি অসম্মান এবং ইসলামের মর্মবাণী প্রচারে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



