
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নড়াইল জেলার আলোকপুর ও এগারোখান গ্রামে ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর, সংসদ সদস্য হাবিবা মাহমুদা, সংসদ সদস্য আরলি এবং সংসদ সদস্য ফারহানা হক।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা, মতুয়া সম্প্রদায়ের নারীদের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ, লোকসংগীত, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে মতুয়া নারীদের নৌকাবাইচ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে, যা গ্রামীণ নারীদের সাহস ও সামাজিক অংশগ্রহণের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মতো ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চনার শিকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জন্মস্থান কারো সুযোগকে সীমাবদ্ধ করবে না।

গ্রামীণ মেলা, হস্তশিল্প ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাজারসংযোগের মাধ্যমে এসব ঐতিহ্যকে স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে শিল্পী, কারিগর ও নারী উদ্যোক্তারা তাদের সৃজনশীলতার ন্যায্য মূল্য পাবেন।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের অধিকার ও সম্ভাবনার বিকাশ। সরকার একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা এবং নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে কাজ করছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষটির জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন। স্থানীয় উদ্যোগ ও সরকারি সহযোগিতায় গ্রামীণ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
আরটিভি/এসআর




